ইসরায়েলকে কোনোভাবেই ফিলিস্তিনের অধিকৃত পশ্চিম তীর দখল করতে দেওয়া হবে না বলে ঘোষণা করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একইসঙ্গে গাজা ইস্যুতে শিগগিরই সমঝোতার সম্ভাবনার কথাও তুলে ধরেন তিনি।
শুক্রবার (২৬ সেপ্টেম্বর) ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি এ তথ্য জানিয়েছে।
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের আগে হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, “আমি ইসরায়েলকে পশ্চিম তীর দখল করতে দেব না—এটা কোনোভাবেই ঘটবে না।” তিনি আরো জানান, গাজা নিয়ে আলোচনা “প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে” পৌঁছেছে এবং দ্রুত অগ্রগতি আশা করা যাচ্ছে।
শুক্রবারই জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ভাষণ দেবেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। পশ্চিমা দেশগুলোর মধ্যে একের পর এক ফিলিস্তিনকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার পর পশ্চিম তীর দখল নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে চাপ ও উদ্বেগ বাড়ছে। জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসসহ বিভিন্ন পশ্চিমা নেতা ইতোমধ্যে সতর্ক করেছেন—এ ধরনের পদক্ষেপ নৈতিক, আইনগত ও রাজনৈতিকভাবে অগ্রহণযোগ্য।
সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাজ্য, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া ও পর্তুগালের পাশাপাশি ফ্রান্স, বেলজিয়াম, লুক্সেমবার্গ, মাল্টা, মোনাকো, সান মারিনো, অ্যান্ডোরা ও ডেনমার্ক ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। এসব স্বীকৃতি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পশ্চিম তীর দখল প্রসঙ্গে আরও জোরালো বিরোধিতা তৈরি করেছে।
অন্যদিকে, ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা না পাওয়ায় নিউইয়র্কে সরাসরি উপস্থিত হতে না পেরে ভিডিওবার্তায় জাতিসংঘে বক্তব্য রাখেন। তিনি ফরাসি শান্তি পরিকল্পনায় সহযোগিতার আগ্রহ প্রকাশ করে বলেন, ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহারের পর গাজার দায়িত্ব স্বাধীন ফিলিস্তিনি সরকার নেবে এবং পশ্চিম তীরের সঙ্গে একীভূত করবে। তবে তিনি স্পষ্ট করেন, “শাসনব্যবস্থায় হামাসের কোনো ভূমিকা থাকবে না।”
যুক্তরাষ্ট্র এখনো ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেয়নি। ওয়াশিংটনের মতে, এটি হামাসের জন্য একধরনের পুরস্কার হবে। তবে আরব ও মুসলিম দেশগুলোর নেতাদের সঙ্গে আলোচনায় ট্রাম্প প্রশাসন গাজা সংকট নিরসনে একটি ২১ দফা খসড়া পরিকল্পনা উত্থাপন করেছে। এর মধ্যে রয়েছে বন্দিদের মুক্তি, স্থায়ী যুদ্ধবিরতি, মানবিক ত্রাণের প্রবেশাধিকার ও ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার।
পশ্চিমা মিত্ররা একযোগে সতর্ক করেছে, ইসরায়েল যদি পশ্চিম তীর দখলে এগোয়, তবে তা মারাত্মক পরিণতি ডেকে আনবে। সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহান বলেন, “মার্কিন প্রেসিডেন্ট পশ্চিম তীর দখলের ঝুঁকি ও বিপদ যথেষ্ট গুরুত্বের সঙ্গে উপলব্ধি করেছেন।”
বিশ্লেষকদের মতে, এই সংকটের স্থায়ী সমাধান নির্ভর করছে রাজনৈতিক সদিচ্ছা, আন্তর্জাতিক চাপ ও বাস্তবসম্মত পদক্ষেপের সমন্বয়ের ওপর—যা বর্তমানে বিশ্ব কূটনীতির কেন্দ্রীয় বিতর্কে পরিণত হয়েছে।

