সম্প্রতি ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলো প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় একটি পরিকল্পনা যাচাই করছে, যার আওতায় রাশিয়া থেকে দুই স্কোয়াড্রনের জন্য সরাসরি Su-57 পঞ্চম প্রজন্মের যুদ্ধবিমান কেনার পাশাপাশি আরও পাঁচ স্কোয়াড্রন স্থানীয়ভাবে লাইসেন্স উৎপাদনের মাধ্যমে সংগ্রহ করার সম্ভাবনা রয়েছে।
এই স্থানীয় উৎপাদন সম্ভবত হিন্দুস্তান অ্যারোনটিকস লিমিটেডের নাসিক সুবিধায় হবে। যেহেতু ভারতীয় বিমানবাহিনীর প্রতিটি স্কোয়াড্রন প্রায় ২০টি বিমান নিয়ে গঠিত, তাই মোট এই উদ্যোগের মাধ্যমে প্রায় ১৪০টি আধুনিক যুদ্ধবিমান যুক্ত হবে, যা ভারতীয় বিমানবাহিনীর ক্ষমতাকে এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছে দিতে সক্ষম হবে।
ভারতীয় বিশ্লেষকরা বিশেষভাবে নতুন রাফালে যুদ্ধবিমানের কার্যকারিতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন, যা দেখা গেছে যখন অপারেশণ সিন্দুর মে মাসের শুরুতে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে চালানো হয়। ফেব্রুয়ারি থেকে Su-57 ক্রয় ও লাইসেন্স উৎপাদন নিয়ে আলোচনার তীব্রতা বেড়েছিল এবং সাম্প্রতিক কার্যক্রম আরও তৎপরতা বৃদ্ধি করেছে বলে মনে করা হচ্ছে।
স্থানীয় মিডিয়া দ্য প্রিন্ট-এর তথ্য অনুযায়ী, Su-57-এর প্রতি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের আগ্রহের বৃদ্ধির পেছনে সাম্প্রতিক অপারেশনাল বাস্তবতা প্রভাব ফেলেছে। বিমানটি উল্লেখযোগ্য অস্ত্র ক্ষমতা এবং দীর্ঘ রেঞ্জে ফ্লিটের ঘাটতি পূরণ করতে সক্ষম।

Su-57 কেবল এলাকার অন্যান্য যেকোনো যোদ্ধা বিমানের তুলনায় দীর্ঘ দূরত্বে কার্যকর, বরং এর এয়ার-টু-এয়ার এবং ক্রুজ মিসাইল শত্রুর গভীর এলাকায় আক্রমণ চালাতে সক্ষম। বিমানটির স্টেলথ এবং উন্নত ইলেকট্রনিক যুদ্ধ সক্ষমতা এটিকে অনেক বেশি টেকসই করে তুলতে পারে, যা পাকিস্তানের আকাশসীমায় গভীর আক্রমণ চালানোর সুযোগ দিতে পারে।
ইতিমধ্যে Su-57 হেভি-ডিফেন্ডেড এলাকায় এয়ার ডিফেন্স সাপ্রেশন ও অন্যান্য অপারেশনে ব্যবহার করা হয়েছে এবং অন্যান্য যোদ্ধা বিমানের তুলনায় বেশি লড়াইয়ে নিয়োজিত হয়েছে। আগস্টের শুরুতে প্রথমবারের মতো এটি একটি হাইপারসনিক এয়ার-টু-সারফেস মিসাইল ইন্টিগ্রেট করেছে, যা ভারতীয় বিমানবাহিনীর জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ন হতে পারে।
রাশিয়ায় উৎপাদিত দুই স্কোয়াড্রন এবং পরে পাঁচ স্কোয়াড্রন স্থানীয়ভাবে উৎপাদনের এই পরিকল্পনা Su-30MKI যুদ্ধবিমানের ক্রয়ের ধরণকে প্রতিফলিত করছে। সেই সময় প্রাথমিকভাবে ১৪০টি বিমান চুক্তিবদ্ধ হয়েছিল, যার মধ্যে প্রায় ৫০টি রাশিয়ায় নির্মিত হয়েছিল এবং পরে লাইসেন্স উৎপাদন শুরু হয়েছিল।

পরবর্তী প্রোগ্রামের বিলম্ব, বিমানের উচ্চ কার্যকারিতা এবং স্থানীয় শিল্পের সুবিধা বিবেচনায় Su-30MKI-এর ক্রয় ২৭০-এরও বেশি বিমান পর্যন্ত বৃদ্ধি পায়। একইভাবে, যদি Su-57-এর লাইসেন্স উৎপাদনের চুক্তি সম্পন্ন হয়, তবে ভারতীয় বিমানবাহিনী প্রাথমিক ১৪০ বিমানের চেয়েও বেশি ক্রয় করতে পারে। এটি যুদ্ধবিমানের ধারাবাহিক আধুনিকীকরণ এবং স্থানীয় উৎপাদনের প্রসারে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।
যদিও ভারতীয় প্রতিরক্ষা খাত Advanced Multirole Combat Aircraft (AMCA) প্রোগ্রামের মাধ্যমে নিজস্ব পঞ্চম প্রজন্মের যুদ্ধবিমান তৈরি করছে, এটি ২০৩০-এর দশকের শেষের আগে সেবায় যোগদান করবে না এবং সম্ভাব্যভাবে ২০৪০-এর দশকে সম্ভব হবে।
এই সময়ের ব্যবধান Su-57 ক্রয়ের জন্য একটি বড় সুযোগ তৈরি করে। পাশাপাশি, দেশের সীমিত যুদ্ধবিমান উন্নয়নের অভিজ্ঞতা এ বিষয়ে প্রশ্ন তুলেছে যে, ভারতীয় বিমান কি আধুনিক Su-57-র সমতুল্য কার্যকারিতা দেখাতে সক্ষম হবে কিনা।

