ভারতের বৃহত্তম কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল লাদাখে কারফিউ জারি করেছে নয়াদিল্লি। সহিংসতা নিয়ন্ত্রণ ও রক্তপাত বন্ধে কেন্দ্রীয় সরকারের নির্দেশে এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে বৃহস্পতিবার টেলিভিশনে দেওয়া ভাষণে জানিয়েছেন লাদাখের লেফটেন্যান্ট গভর্নর কবীন্দর গুপ্ত।
তিনি জানান, গত দুই দিনের বিক্ষোভে যারা নেতৃত্ব দিয়েছে বা উসকানি ছড়িয়েছে, তাদের গ্রেপ্তার করা হবে। নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে তিনি সতর্ক করে বলেন, কোনো ধরনের সহিংসতা সহ্য করা হবে না, দমনেও নেওয়া হবে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা। ইতোমধ্যে রাজধানী লেহসহ সব জেলা প্রশাসনিক দপ্তরে কারফিউ সংক্রান্ত নির্দেশনা পাঠানো হয়েছে।
বুধবার থেকে লেহ শহরে শুরু হওয়া বিক্ষোভে পৃথক রাজ্যের মর্যাদা প্রদানের দাবি জানায় স্থানীয়রা। বিক্ষুব্ধ জনতা বিজেপির কার্যালয় ও নগর প্রশাসন ভবনে অগ্নিসংযোগ করে। এসময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে ৪ জন নিহত ও অন্তত ৯০ জন আহত হন।
কেন্দ্রীয় সরকার বিক্ষোভের পেছনে জলবায়ুকর্মী সোনাম ওয়াংচুককে দায়ী করেছে। আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন এ আন্দোলনকর্মী দীর্ঘদিন ধরে লাদাখকে রাজ্য ঘোষণার দাবিতে সোচ্চার এবং ১৫ দিন আগে থেকে অনশনরত ছিলেন।
অভিযোগ অনুযায়ী, বুধবার দুপুরে নেপালের সাম্প্রতিক গণআন্দোলনের উদাহরণ টেনে তিনি উসকানিমূলক বক্তব্য দেন, যার পরেই তার অনুসারীদের একাংশ রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ শুরু করে।
এছাড়া লেহ নগর প্রশাসনের কাউন্সিলর ও কংগ্রেস নেতা ফুন্তসোগ স্তানজিন সেপাগের বিরুদ্ধেও উসকানির অভিযোগে মামলা করেছে পুলিশ। বুধবার রাতে সহিংসতা, পুলিশের ওপর হামলা ও অগ্নিসংযোগের অভিযোগে অভিযান চালিয়ে ৫০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারদের মধ্যে কংগ্রেস নেতা সেপাগও থাকতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

