রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ পশ্চিমা বিশ্বকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, মস্কোর বিরুদ্ধে কোনো ধরনের আগ্রাসন চালানো হলে তার জবাব কঠোরভাবে দেওয়া হবে। গতকাল শনিবার জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে দেওয়া ভাষণে তিনি এ হুঁশিয়ারি দেন।
লাভরভ বলেন, রাশিয়ার আকাশসীমায় কোনো উড়োজাহাজ ভূপাতিত করার চেষ্টা করলে তার ফলাফল ভয়াবহ হবে। তিনি অভিযোগ করেন, জার্মানি যুদ্ধের ভঙ্গিমায় কথাবার্তা বলছে।
ইউক্রেনে রাশিয়ার যুদ্ধ চলার মধ্যে সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ন্যাটোর পূর্বাঞ্চলীয় সীমান্তে উত্তেজনা বৃদ্ধি পেয়েছে। এস্তোনিয়া জানিয়েছে, মস্কো তাদের আকাশসীমায় তিনটি যুদ্ধবিমান পাঠিয়েছে। এছাড়া পোল্যান্ডের আকাশসীমায় ন্যাটোর যুদ্ধবিমান রুশ ড্রোন ভূপাতিত করেছে।
লাভরভ আরো বলেন, “আমাদের দেশের বিরুদ্ধে যেকোনো আগ্রাসনের জবাব কঠোর হবে। বিশেষ করে যারা ন্যাটো ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের ভোটারদের বলছেন যে রাশিয়ার সঙ্গে যুদ্ধ অনিবার্য, তাঁরা এটি জেনে রাখুন।”
পূর্ব ইউরোপের দেশগুলো রাশিয়ার ড্রোন বা যুদ্ধবিমানের উপস্থিতি নিয়ে উদ্বিগ্ন। দেশগুলো রাশিয়াকে শীতল যুদ্ধের পর থেকে সবচেয়ে বড় হুমকি হিসেবে দেখছে। এ দুই পক্ষের উত্তেজনার মধ্যে ইউক্রেনে রাশিয়ার যুদ্ধ অবিলম্বে বন্ধ হওয়ার আশাও কমে গেছে।
যদি আমাদের আকাশসীমায় কোনো উড়ন্ত বস্তু ভূপাতিত করার চেষ্টা করা হয়, তা যেকোনো বস্তুই হোক, সেটি হবে আমাদের সার্বভৌমত্ব ও ভূখণ্ডের অখণ্ডতার বড় লঙ্ঘন। আমি মনে করি, যারা এ ধরনের চেষ্টা চালাবে, তারা খুবই পস্তাবে।
সের্গেই লাভরভ, রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী
লাভরভ ভাষণে উল্লেখ করেন, রাশিয়া কখনো ন্যাটো বা ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশগুলোতে ড্রোন বা ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়নি এবং ভবিষ্যতেও এমন কোনো পরিকল্পনা নেই।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প চলতি সপ্তাহে বলেন, ন্যাটোর আকাশসীমা লঙ্ঘনকারী রাশিয়ার বিমান ভূপাতিত করা সমর্থনযোগ্য। এর আগে ট্রাম্প ইউক্রেনে রাশিয়ার সামরিক সক্ষমতাকে ‘কাগজের বাঘ’ বলে উপহাস করেছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে লাভরভ সতর্ক করে বলেন, “যদি আমাদের আকাশসীমায় কোনো উড়ন্ত বস্তু ভূপাতিত করার চেষ্টা করা হয়, তা যেকোনো বস্তুই হোক, এটি আমাদের সার্বভৌমত্ব ও ভূখণ্ডের অখণ্ডতার বড় লঙ্ঘন। যারা এটি চেষ্টা করবে, তারা পস্তাবে।”
লাভরভ বিশেষভাবে জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মেৎর্সের কথাও উল্লেখ করে সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, কিছু ন্যাটো ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন নেতার বক্তব্যে মস্কো উদ্বিগ্ন, যা তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের আশঙ্কা তৈরি করছে।
তবে রাশিয়া ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে খোলামেলা আলোচনার ব্যাপারে আশাবাদী। লাভরভ জানান, আগামী কয়েক মাসে যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার মধ্যে তৃতীয় দফার আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে। দুই দেশের দূতাবাসের কার্যক্রম উন্নত করাই আলোচনার লক্ষ্য। গত এক দশকে পাল্টাপাল্টি কূটনৈতিক নিষেধাজ্ঞা ও বিধিনিষেধের কারণে কার্যক্রম সীমিত হয়ে গেছে।
উল্লেখ্য, লাভরভ গত বুধবার জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে যোগ দেওয়ার ফাঁকে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর সঙ্গে বৈঠক করেছেন।

