বিশ্বের শীর্ষ ধনকুবের ইলন মাস্ক এবার নতুন এক ইতিহাস গড়লেন। অল্প সময়ের জন্য হলেও তার ব্যক্তিগত সম্পদের পরিমাণ ছুঁয়েছে ৫০০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার—যা মানব ইতিহাসে এই প্রথম!
ফোর্বসের বিলিয়নিয়ার সূচক অনুযায়ী, বুধবার (১ অক্টোবর) মাস্কের সম্পদ দাঁড়ায় ৫০০.১ বিলিয়ন ডলার। যদিও দিনের শেষে তা সামান্য কমে ৪৯৯ বিলিয়ন ডলারের ওপরে নামে। তবুও, এই মাইলফলক মাস্ককে আরও শক্তভাবে বিশ্বের এক নম্বর ধনীর আসনে বসিয়েছে।
ওরাকল প্রতিষ্ঠাতা ল্যারি এলিসন বর্তমানে প্রায় ৩৫০.৭ বিলিয়ন ডলারের মালিক। গত মাসে কোম্পানির শেয়ারের দাম হঠাৎ ৪০% বেড়ে যাওয়ায় কিছু সময়ের জন্য তিনি মাস্ককে টপকেও গিয়েছিলেন। কিন্তু এখন আবার বেশ পিছিয়ে পড়েছেন।
মাস্কের সম্পদের মূল ভিত্তি টেসলা। কোম্পানির প্রায় ১২% শেয়ারের মালিক তিনি। চলতি বছর শেয়ারের দাম বেড়েছে ২০% এরও বেশি। শুধু বুধবারের লেনদেনেই বেড়েছে আরও ৩.৩%। বিশ্লেষকরা বলছেন, রাজনীতি থেকে কিছুটা সরে এসে ব্যবসায় মনোযোগ ফেরানোয় বিনিয়োগকারীরা আবারও আস্থা পাচ্ছেন মাস্কের ওপর।
টেসলার বোর্ড চেয়ারম্যান রবিন ডেনহোলম জানাচ্ছেন, মাস্ক এখন কোম্পানির কেন্দ্রবিন্দুতে ফিরেছেন। সামনে তার লক্ষ্য—
- টেসলার বাজারমূল্য আটগুণ বৃদ্ধি,
- এক মিলিয়ন এআই-চালিত রোবট বিক্রি
- আরও ১২ মিলিয়ন টেসলা গাড়ি বাজারজাতকরণ
- রোবটিক্স ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় বড় পদক্ষেপ নেওয়া।
এসব অর্জন করতে পারলে মাস্কের সম্পদ ভবিষ্যতে এক ট্রিলিয়ন ডলার ছুঁতে পারে বলে মনে করছেন বোর্ড সদস্যরা।
শুধু কথাতেই নয়, মাস্ক গত মাসে নিজের প্রায় ১ বিলিয়ন ডলার দিয়ে টেসলার শেয়ার কিনেছেন। এটিকে বিনিয়োগকারীরা স্পষ্ট বার্তা হিসেবে দেখছেন যে, মাস্ক টেসলার ভবিষ্যৎ নিয়ে ভীষণ আশাবাদী।
গত কয়েক বছর ধরে টেসলা চীনের বিওয়াইডি-সহ আরও অনেক ইলেকট্রিক গাড়ি নির্মাতার সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। তবে প্রতিষ্ঠানটি এখন শুধু গাড়ি ব্যবসার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়—বরং এআই, রোবটিক্স এবং নতুন প্রযুক্তিতে নিজেদের শক্ত অবস্থান তৈরি করতে এগোচ্ছে।

