মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র এখন মাদক কার্টেলগুলোর সঙ্গে সরাসরি সশস্ত্র সংঘাতে জড়িয়ে আছে। মার্কিন কংগ্রেসে পাঠানো তার এক গোপন নোটিশ থেকে এ তথ্য প্রকাশ পেয়েছে।
প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমস নোটিশটির কপি সংগ্রহ করেছে বলে জানায়। শুক্রবার (৩ অক্টোবর) বার্তাসংস্থা আনাদোলু এই তথ্য প্রকাশ করেছে।
নোটিশে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প কংগ্রেসকে অবহিত করেছেন যে, তার প্রশাসন মাদক কার্টেলগুলোকে “সন্ত্রাসী সংগঠন” হিসেবে চিহ্নিত করেছে। একই সঙ্গে পাচারের অভিযোগে জড়িত সন্দেহভাজনদের “অবৈধ যোদ্ধা” আখ্যা দেওয়া হয়েছে।
নিউইয়র্ক টাইমসের বরাতে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, গত মাসে টানা তিনটি হামলার ঘটনায় লক্ষ্যবস্তু করা নৌকায় অন্তত ১৭ জন নিহত হয়েছেন। এসব অভিযানের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন উঠলেও ট্রাম্প প্রশাসন দাবি করছে, তা আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের অংশ হিসেবে “সশস্ত্র সংঘাতের আইন” অনুযায়ী বৈধ এবং কেবলমাত্র যুক্তরাষ্ট্রের আত্মরক্ষামূলক পদক্ষেপ। তাদের যুক্তি, মাদক কার্টেলগুলোর কার্যক্রম যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে সরাসরি শত্রুতামূলক হামলার সমান।
মার্কিন আইন অনুযায়ী, সেনাদের যে কোনো সংঘাত বা শত্রুতামূলক কার্যক্রমে যুক্ত করা হলে কংগ্রেসকে সে বিষয়ে অবহিত করতে হয়। সেই নিয়ম মান্য করেই এই নোটিশ দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
ট্রাম্প নোটিশে আরও উল্লেখ করেছেন, মাদক কার্টেলগুলো হলো “অরাষ্ট্রীয় সশস্ত্র গোষ্ঠী” এবং তাদের কার্যক্রম যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে “সশস্ত্র আক্রমণ” হিসেবে বিবেচিত। তিনি এ পরিস্থিতিকে “অ-আন্তর্জাতিক সশস্ত্র সংঘাত” হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
তবে নোটিশে কোনো নির্দিষ্ট কার্টেলের নাম উল্লেখ করা হয়নি, কিংবা কাদের “অবৈধ যোদ্ধা” বলা হবে, সেই মানদণ্ডও স্পষ্ট করা হয়নি।
এ বিষয়ে মার্কিন সিনেটের সশস্ত্র বাহিনী বিষয়ক কমিটির শীর্ষ ডেমোক্র্যাট জ্যাক রিড সমালোচনা করে বলেছেন, ট্রাম্প কার্যত কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়াই একটি “গোপন যুদ্ধ” চালিয়ে যাচ্ছেন।

