ভারতের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের জয়পুরে রাজ্যের সর্ববৃহৎ সরকারি হাসপাতালের ট্রমা সেন্টারে অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ছয়জন রোগীর মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় আরও পাঁচজন গুরুতরভাবে আহত হয়েছেন। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সোমবার এই তথ্য জানিয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত হয় সাওয়াই মান সিং হাসপাতালের নিউরোসার্জারিন আইসিউ-তে। হাসপাতাল কর্মকর্তা অনুরাগ ঢাকাড এএনাই নিউজ এজেন্সিকে জানান, আগুনের সম্ভাব্য কারণ শর্ট-সার্কিট। আগুন লাগার সঙ্গে সঙ্গে বিষাক্ত ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়ে, যা রোগীদের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি সৃষ্টি করে।
“এখনো পাঁচজন রোগীর অবস্থা সংকটজনক,” তিনি জানান। পাশাপাশি দুটি ওয়ার্ড থেকে ১৩ জন রোগীকে নিরাপদে উদ্ধার করা হয়েছে। জয়পুর, রাজস্থানের রাজধানী হওয়ায়, এই হাসপাতালে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে রোগী আসেন।
হাসপাতাল সুপারিনটেনডেন্ট সুশীল কুমার ভাটি জানান, আগুন লাগার মাত্র ২০ মিনিটের মধ্যে ফায়ার ব্রিগেড ঘটনাস্থলে পৌঁছে। তবে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে প্রায় দুই ঘণ্টা লেগেছে। এ সময় হাসপাতালের অধিকাংশ যন্ত্রপাতি পুড়ে গেছে, বলে জানিয়েছে এনডিটিভি।
জয়পুর পুলিশের প্রধান বিজু জর্জ জোসেফ জানিয়েছেন, ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে ফরেনসিক তদন্ত করা হবে। রাজস্থান সরকারও একটি বিশেষ কমিটি গঠন করেছে। কমিটি হাসপাতালের আগুন নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাপনা, পরিচালনার প্রতিক্রিয়া এবং ভবিষ্যতে এমন দুর্ঘটনা প্রতিরোধের জন্য পদক্ষেপগুলি পর্যালোচনা করবে।
ভারতে আগে আরও কয়েকটি হাসপাতাল আগুনে দগ্ধ হয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, উত্তর প্রদেশের একটি নবজাতক আইসিউ-তে ২০২৩ সালের নভেম্বর মাসে আগুন লেগে ১০ জন নবজাতকের মৃত্যু হয়েছিল। এছাড়াও, ২০২৪ সালের মে মাসে দিল্লির একটি শিশু যত্ন হাসপাতালে আগুনে ছয়জন নবজাতকের মৃত্যু হয়েছিল।
এই দুর্ঘটনাগুলো দেখায়, হাসপাতালে বিদ্যুৎ সরঞ্জামের শর্ট-সার্কিট বা নিরাপত্তা ব্যবস্থার ঘাটতির কারণে রোগীদের জন্য কতটা বিপদ তৈরি হতে পারে। রাজস্থান সরকার ইতোমধ্যেই প্রতিকূল পরিস্থিতি প্রতিরোধ এবং হাসপাতালগুলোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করার জন্য তদন্ত শুরু করেছে।

