বিশ্বের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ স্বীকৃতি—নোবেল পুরস্কার। আর এবার চিকিৎসাবিজ্ঞানের শাখায় সেই গৌরব অর্জন করেছেন তিনজন বিজ্ঞানী: মেরি ব্রাঙ্কো, ফ্রেড র্যামসডেল ও শিমন সাকাগুচি।
সোমবার সুইডেনের কারোলিনস্কা ইনস্টিটিউট ঘোষণা করে, তারা ২০২৫ সালের নোবেল পুরস্কার ইন ফিজিওলজি অর মেডিসিন পেয়েছেন “peripheral immune tolerance বা দেহের ইমিউন সিস্টেমের স্ব-নিয়ন্ত্রণ সম্পর্কিত আবিষ্কারের জন্য।”
এই তিন বিজ্ঞানীর আবিষ্কার চিকিৎসা বিজ্ঞানে এক নতুন অধ্যায় সূচনা করেছে। তাদের গবেষণা দেখিয়েছে, কীভাবে আমাদের দেহের ইমিউন সিস্টেম নিজের কোষকে আক্রমণ করা থেকে বিরত থাকে—যে প্রক্রিয়াকে বলা হয় “পেরিফেরাল ইমিউন টলারেন্স”। এই ধারণাই ভবিষ্যতে ক্যানসার ও অটোইমিউন রোগের (যেমন টাইপ-১ ডায়াবেটিস, রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস, মাল্টিপল স্ক্লেরোসিস) চিকিৎসায় নতুন দিগন্ত খুলে দিয়েছে।
নোবেল কমিটির বিবৃতিতে বলা হয়,
“তাদের আবিষ্কার চিকিৎসা বিজ্ঞানে এক সম্পূর্ণ নতুন ক্ষেত্রের ভিত্তি স্থাপন করেছে এবং ক্যানসারসহ জটিল অটোইমিউন রোগের চিকিৎসা পদ্ধতিতে বিপ্লব এনেছে।”
প্রতিবছরের মতো এবারও চিকিৎসা বিভাগে বিজয়ীদের নির্বাচন করেছে কারোলিনস্কা ইনস্টিটিউটের নোবেল অ্যাসেম্বলি। তারা পাবেন ১১ মিলিয়ন সুইডিশ ক্রাউন (প্রায় ১.২ মিলিয়ন মার্কিন ডলার) এবং সুইডেনের রাজা কর্তৃক প্রদত্ত সোনার মেডেল।
নোবেল পুরস্কারের সূচনা হয় ১৯০১ সালে, ডিনামাইটের আবিষ্কারক ও উদ্যোক্তা আলফ্রেড নোবেলের ইচ্ছাপত্র অনুযায়ী। এরপর থেকে বিজ্ঞান, সাহিত্য ও শান্তি প্রতিষ্ঠায় অসামান্য অবদানের জন্য এই পুরস্কার প্রদান করা হয়ে আসছে।
চিকিৎসাবিজ্ঞানের পুরস্কার দিয়েই প্রতি বছর নোবেল মৌসুমের সূচনা হয়, এরপর ক্রমান্বয়ে ঘোষণা করা হয় পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন, সাহিত্য, শান্তি ও অর্থনীতির পুরস্কার। ডিসেম্বরের ১০ তারিখ—আলফ্রেড নোবেলের মৃত্যুবার্ষিকীতে—স্টকহোম ও অসলোতে জমকালো আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয় পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠান, যেখানে উপস্থিত থাকেন সুইডেন ও নরওয়ের রাজপরিবারের সদস্যরা।
এক শতাব্দীরও বেশি সময় পরও নোবেল পুরস্কার রয়ে গেছে মানব জ্ঞানের সর্বোচ্চ স্বীকৃতি—যা শুধু বিজ্ঞানীদের নয়, সমগ্র মানবজাতির অর্জন উদযাপন করে।

