আগামীকাল, ৭ অক্টোবর, ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজায় ইসরাইলি আগ্রাসনের দুই বছর পূর্ণ হবে। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া এই নৃশংস হামলায় উপত্যকায় নিহত হয়েছেন ৬৭ হাজারের বেশি মানুষ, আর নিখোঁজ আছেন আরও প্রায় ১০ হাজার। গত দুই বছরে গাজায় ইসরাইল প্রায় ২ লাখ টনের বিস্ফোরক নিক্ষেপ করেছে।
লেবাননের আল–মায়েদিনের খবরে বলা হয়েছে, গাজা সরকারের জনসংযোগ কার্যালয় সম্প্রতি একটি প্রতিবেদনের মাধ্যমে এই বিপর্যয় তুলে ধরেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, হামলায় শতাধিক পরিবার নিশ্চিহ্ন হয়েছে, শিশু ও নারীর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি—২০ হাজারের বেশি শিশু এবং ১২ হাজার ৫০০ নারী প্রাণ হারিয়েছেন। অনেক পরিবারের কেবল একজন সদস্য বেঁচে আছেন।
ইসরাইলি বিমান ও স্থল হামলায় গাজার ৯০ শতাংশ অবকাঠামো ধ্বংস হয়ে গেছে। দুই বছরে ২০ লাখের বেশি মানুষ জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। স্বাস্থ্য খাতও বিপর্যস্ত; ৩৮টি হাসপাতাল ও ৯৬টি ক্লিনিক ধ্বংস বা অচল, ১ হাজার ৬০০’র বেশি চিকিৎসক নিহত। শিশুরা মারাত্মক খাদ্যসংকটে আছে—৬ লাখ ৫০ হাজার শিশু দৈনন্দিন খাবার, দুধ ও ওষুধের অভাবে বিপন্ন।
শিক্ষা খাতেও ক্ষয়ক্ষতি চরম—৯৫ শতাংশ বিদ্যালয় ক্ষতিগ্রস্ত, ১৬৫টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ধ্বংস। ১৩ হাজার ৫০০ শিক্ষার্থী ও ৮৩০ শিক্ষক নিহত হয়েছেন। ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক স্থানগুলোও নিরাপদ নয়; ৮৩৫টি মসজিদ ধ্বংস হয়েছে।
গাজার ওপর সামগ্রিক ক্ষতি ৭০ বিলিয়ন ডলারের বেশি। এর মধ্যে আবাসন খাতের ক্ষতি ২৮ বিলিয়ন, স্বাস্থ্য খাত ৫ বিলিয়ন, শিক্ষা খাত ৪ বিলিয়ন ডলার। চাষযোগ্য জমি ও মৎস্য খাত প্রায় ধ্বংস হয়ে গেছে, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য মারাত্মক হুমকি।
গাজা সরকার আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে—ইসরাইলি অবরোধ তুলে দিয়ে মানবিক সহায়তা প্রবেশের সুযোগ দিতে হবে। এখনও পর্যন্ত জাতিসংঘ ও মানবাধিকার সংস্থার যুদ্ধাপরাধ তদন্তের দাবি কার্যকর হয়নি।
দুই বছরের এই নৃশংসতা গাজাকে প্রায় সম্পূর্ণ ধ্বংসস্তূপে পরিণত করেছে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ এটিকে বলছে—‘৭৩০ দিনের গণহত্যা ও জাতিগত নিধন’। মানুষ বেঁচে থাকার লড়াই চালাচ্ছে, ঘরবাড়ি ও নিরাপত্তা হারিয়ে, ক্ষুধার্ত অবস্থায়।

