মিসরের পর্যটন শহর শারম এল শেখে যখন যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনায় বসেছে বিশ্বশক্তিরা, ঠিক তখনই ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় আবারও হামলা চালিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী। স্থানীয় সূত্র বলছে, সোমবার সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত চলা হামলায় অন্তত ১০ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে তিনজন মারা যান ত্রাণ নিতে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায়।
আলোচনার পটভূমি বেশ জটিল। গত সপ্তাহেই যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গাজায় যুদ্ধবিরতির জন্য নতুন একটি রূপরেখা পেশ করেন। প্রথমে ইসরায়েল এবং পরে হামাসও এই প্রস্তাবে নীতিগত সম্মতি জানায়। এরপর ট্রাম্প সরাসরি ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে আহ্বান জানান— হামলা বন্ধের নির্দেশ দিতে। নেতানিয়াহু তখন বলেছিলেন, গাজায় অভিযান স্থগিতের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
কিন্তু মাটির বাস্তবতা বলছে অন্য কথা। গাজার স্থানীয় সূত্রগুলোর ভাষ্য অনুযায়ী, সেই নির্দেশের পরের তিন দিনেই ইসরায়েলি সেনাদের গুলিতে ১০৪ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর মুখপাত্র অবশ্য দাবি করছেন, এসব অভিযান “রক্ষণাত্মক” উদ্দেশ্যে পরিচালিত।
একই সময়ে, শারম এল শেখে শুরু হয়েছে ট্রাম্পের যুদ্ধবিরতি পরিকল্পনা নিয়ে প্রথম দফার বৈঠক। এতে অংশ নিয়েছে ইসরায়েল, যুক্তরাষ্ট্র, মিসর, কাতার ও হামাসের প্রতিনিধি দল। মিসরীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, আলোচনার প্রাথমিক পর্যায়ে গাজার ইসরায়েলি বন্দিদের মুক্তি এবং ইসরায়েলের কারাগারে থাকা ফিলিস্তিনি বন্দিদের বিনিময় প্রক্রিয়া নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
আজ, ৭ অক্টোবর, এই যুদ্ধের সূচনার দিন। ঠিক দুই বছর আগে, ২০২৩ সালের এই ভোরবেলায় হামাস যোদ্ধারা ইসরায়েলের ভেতরে প্রবেশ করে ১ হাজার ২০০ জনকে হত্যা করে এবং ২৫১ জনকে জিম্মি করে গাজায় নিয়ে যায়। সেই ঘটনার পরপরই শুরু হয় ইসরায়েলের ভয়াবহ সামরিক অভিযান— যা এখনও থামেনি।
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাব বলছে, টানা দুই বছরে ৬৭ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, আহত হয়েছেন প্রায় ১ লাখ ৭০ হাজার মানুষ।
এখনো সেই রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের কোনো শেষ দেখা যাচ্ছে না। শারম এল শেখের আলোচনাও কেবল রাজনৈতিক সৌজন্য বিনিময়ে আটকে আছে, আর এদিকে গাজার আকাশে প্রতিদিন নতুন করে ভাসছে ধোঁয়ার কালো মেঘ।

