যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ঘোষিত যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকার কথা থাকলেও বাস্তবে তার চিত্র ভিন্ন। সংঘাত থামার বদলে বরং আরও বিস্তৃত হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে দক্ষিণ লেবাননের বিভিন্ন এলাকা খালি করার নতুন নির্দেশ দিয়েছে ইসরায়েল, যা অঞ্চলজুড়ে উদ্বেগ আরও বাড়িয়ে তুলেছে।
ইসরায়েলের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তথাকথিত ‘বাফার জোন’-এর বাইরের সাতটি শহরের বাসিন্দাদের দ্রুত এলাকা ছেড়ে উত্তর ও পশ্চিম দিকে সরে যেতে বলা হয়েছে। এসব এলাকা লিতানি নদীর উত্তরে অবস্থিত, যেখানে যুদ্ধবিরতি সত্ত্বেও সামরিক অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে ইসরায়েলি বাহিনী।
ইসরায়েলের দাবি, হিজবুল্লাহ যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করছে এবং এর জবাবে তারা কঠোর ব্যবস্থা নিতে বাধ্য হচ্ছে। তবে এই অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করেছে হিজবুল্লাহ। সংগঠনটির বক্তব্য, তারা যে হামলা চালাচ্ছে তা মূলত ইসরায়েলের যুদ্ধবিরতি ভঙ্গের প্রতিক্রিয়া। তাদের মতে, যে যুদ্ধবিরতি তারা অনুমোদনই করেনি, সেটির দায় তাদের ওপর চাপানো অনুচিত।
এদিকে সাম্প্রতিক হামলায় দক্ষিণ লেবাননে অন্তত ১৪ জন নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে নারী ও শিশুও রয়েছে। আহত হয়েছেন আরও কয়েক ডজন মানুষ। এতে মানবিক সংকট আরও তীব্র আকার ধারণ করছে, কারণ বহু মানুষ আবারও নিজেদের ঘরবাড়ি ছেড়ে পালাতে বাধ্য হচ্ছেন।
পরিস্থিতি আরও জটিল করে তুলেছে রাজনৈতিক অচলাবস্থা। ইসরায়েলের সঙ্গে সরাসরি আলোচনার প্রস্তাবও প্রত্যাখ্যান করেছে হিজবুল্লাহ নেতৃত্ব, যা ভবিষ্যতে শান্তি প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনাকে আরও অনিশ্চিত করে তুলছে।
সব মিলিয়ে, যুদ্ধবিরতির আড়ালে দক্ষিণ লেবাননে যে নতুন করে সংঘাতের আগুন জ্বলছে, তা পুরো মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতার জন্য বড় ধরনের হুমকি হয়ে উঠছে।
সিভি/এইচএম

