বিশ্বে প্রথমবারের মতো কয়লা থেকে উৎপাদিত বিদ্যুতের পরিমাণকে ছাড়িয়ে গেছে নবায়নযোগ্য শক্তি। সূর্য, বায়ু, পানিপ্রবাহসহ প্রাকৃতিক বিভিন্ন উৎস থেকে উৎপাদিত বিদ্যুতের মোট পরিমাণ চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে কয়লার উৎপাদনের চেয়ে বেশি হয়েছে। এই তথ্য মঙ্গলবার প্রকাশ করেছে যুক্তরাজ্যভিত্তিক জ্বালানিবিষয়ক থিঙ্ক ট্যাংক অ্যাম্বার।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত নবায়নযোগ্য উৎস থেকে মোট ৫ হাজার ৭২ টেরাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদিত হয়েছে। একই সময়ে কয়লাভিত্তিক উৎপাদন ছিল ৪ হাজার ৮৯৬ টেরাওয়াট। এক হাজার মেগাওয়াটকে গিগাওয়াট এবং এক হাজার গিগাওয়াটকে এক টেরাওয়াট বিদ্যুতের সমতুল্য ধরা হয়।
কয়লাভিত্তিক তাপবিদ্যুৎকেন্দ্রে কয়লা পোড়ানোর ফলে যে পরিমাণ কার্বন ডাই অক্সাইড ও অন্যান্য গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গত হয়, তা পরিবেশ দূষণ ও বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধিতে দায়ী। ফলে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিশ্বের অনেক দেশ জীবাশ্ম জ্বালানি থেকে নবায়নযোগ্য উৎসে শক্তি উৎপাদনের দিকে ঝুঁকছে।
অ্যাম্বারের জ্যেষ্ঠ বিশ্লেষক ম্যালগোরজাতা উইয়াত্রোস-মোতিকা বলেন, “বিদ্যুতের বৈশ্বিক উৎপাদন খাতে আমরা গুরুত্বপূর্ণ একটি টার্নিং পয়েন্টে পৌঁছেছি। ২০২৫ সালের প্রথম ছয় মাসে আমরা যা আশা করেছিলাম, তার চেয়েও দ্রুত কয়লার ওপর নির্ভরতা হ্রাস পাচ্ছে এবং সৌরশক্তি, বায়ুশক্তি ও পানিপ্রবাহ থেকে উৎপাদন বাড়ছে। এটা অত্যন্ত ইতিবাচক লক্ষণ।”
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নবায়নযোগ্য শক্তি উৎপাদনের ক্ষেত্রে চীন ও ভারতের অবদান সবচেয়ে বড়। এ দুই দেশে প্রায় ৩০০ কোটি মানুষ বসবাস করেন এবং বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য দীর্ঘদিন ধরে তারা কয়লা ও তেলের ওপর নির্ভরশীল ছিল। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এই নির্ভরতা কমেছে।
অ্যাম্বারের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে চীনে ও ভারতে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুতের উৎপাদন হ্রাস পেয়েছে ২ শতাংশ, আর সৌর, বায়ু ও পানিপ্রবাহ থেকে উৎপাদন বেড়েছে যথাক্রমে ৪৩ শতাংশ এবং ১৬ শতাংশ।
ভারতেও গত বছরের তুলনায় সৌরবিদ্যুৎ ও বায়ুশক্তি উৎপাদন বেড়েছে যথাক্রমে ২৯ শতাংশ এবং ৩১ শতাংশ। তবে যুক্তরাষ্ট্রের চিত্র খানিকটা ভিন্ন। বিশ্বের বৃহত্তম অর্থনীতিতে বছরের প্রথম ছয় মাসে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুতের উৎপাদন ১৭ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।

