দক্ষিণ সুদানে এক নারীকে কেন্দ্র করে ঘটে গেল রক্তাক্ত বন্দুকযুদ্ধ। দেশটির সেনাবাহিনী জানিয়েছে, ‘ত্রিভুজ প্রেম’-সংক্রান্ত এক সংঘর্ষে অন্তত ১৪ জন সেনা নিহত ও আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন।
ঘটনাটি ঘটে সোমবার, দক্ষিণ সুদান ও সুদানের সীমান্তবর্তী তেলসমৃদ্ধ আবিয়েই বক্স অঞ্চলের এক ব্যস্ত বাজারে। সেখানে সরকারপন্থী ও বিরোধী যোদ্ধাদের নিয়ে গঠিত ইউনিফায়েড ভিআইপি প্রোটেকশন ফোর্স সদস্যদের মধ্যে গোলাগুলি শুরু হয়।
সেনাবাহিনীর মুখপাত্র লুল রুয়াই কোয়াং বলেন, সংঘর্ষের সূত্রপাত হয় দুই কর্মকর্তার মধ্যে, যাদের একজন প্রেসিডেন্ট সালভা কিয়িরপন্থী এবং অন্যজন তার প্রতিদ্বন্দ্বী রিয়েক মাচারপন্থী। তিনি জানান, “দুজন কর্মকর্তাই একই নারীর প্রেমে জড়িয়ে পড়েছিলেন। এ নিয়ে তর্ক থেকে শুরু হয় গোলাগুলি, যা দ্রুত পুরো ব্যারাকে ছড়িয়ে পড়ে।”
প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, মাচারপন্থী কর্মকর্তা প্রথমে গুলি চালিয়ে তার প্রতিদ্বন্দ্বীকে হত্যা করেন, এরপর উভয় পক্ষের দেহরক্ষীরা পাল্টা গুলি চালালে সংঘর্ষ ভয়াবহ রূপ নেয়। এতে ১৪ সেনা নিহত হন—এর মধ্যে ছয়জন মাচারপন্থী (এসপিএলএ-আইও) এবং আটজন কিয়িরপন্থী (এসএসপিডিএফ)।
একজন বেসামরিক নাগরিকও গুলিবিদ্ধ হয়েছেন, তবে তার অবস্থা এখনো নিশ্চিত নয়। আহত পাঁচজন সেনাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।
দক্ষিণ সুদানে প্রেসিডেন্ট সালভা কিয়ির ও তার দীর্ঘদিনের প্রতিদ্বন্দ্বী রিয়েক মাচারের মধ্যে ক্ষমতা-বণ্টন চুক্তি ভঙ্গুর অবস্থায় রয়েছে। গত মাসে মাচারের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ এনে তাকে ঐক্য সরকারের পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়, যা দেশটিকে আবারও গৃহযুদ্ধের মুখে ঠেলে দিতে পারে।
জাতিসংঘের মানবাধিকার দপ্তর সম্প্রতি সতর্ক করেছে—দক্ষিণ সুদান এখন আবারও যুদ্ধের প্রান্তে দাঁড়িয়ে। কেবল চলতি বছরেই সেখানে প্রায় দুই হাজার বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন।
২০১১ সালে সুদান থেকে স্বাধীনতা লাভের পর দক্ষিণ সুদান পাঁচ বছরের এক রক্তক্ষয়ী গৃহযুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে। ২০১৮ সালের শান্তিচুক্তি সেই যুদ্ধের ইতি টানলেও এখনো দেশটি স্থায়ী শান্তি ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার দেখা পায়নি।

