গাজা উপত্যকা ও ইসরায়েলের বিভিন্ন এলাকায় দুই বছরের যুদ্ধবিরতি শেষে শান্তিচুক্তির খবর পৌঁছাতে গভীর আনন্দ ও আবেগের ঢেউ ছড়িয়েছে। গাজার শহরগুলোতে রাতের আকাশে আনন্দের গুলির আওয়াজ এবং কান্না মিশানো উল্লাস ভেসে ওঠে।
খান ইউনিসের বাসিন্দা আয়মান সাবের বলেন, “আমি খবরটা বিশ্বাসই করতে পারছি না।” উপকূলীয় এলাকা আল-মাওয়াসিতে লোকজন একত্রিত হয়ে স্লোগান দেন ‘আল্লাহু আকবর’ এবং আনন্দে আকাশে গুলি ছোড়েন। গাজার বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনি আহমেদ শেহেইবার বলেন, “আজ বিশাল একটা দিন, অশেষ আনন্দের।”
তবে এই আনন্দের মধ্যে রয়েছে উদ্বেগ। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, ইসরায়েল চুক্তি বাস্তবায়নে বাধা সৃষ্টি করতে পারে।
মিশরের পর্যটননগরী শারম আল শেখে কয়েক দিনের পরোক্ষ আলোচনার পর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রস্তাবিত ২১ দফা শান্তি পরিকল্পনার প্রাথমিক ধাপ বাস্তবায়নের জন্য ইসরায়েল ও হামাসের সম্মতি এসেছে।
ইসরায়েলের রাস্তায় আনন্দ উদযাপনের দৃশ্য লক্ষ্য করা গেছে। দুই বছর ধরে বন্দি প্রিয়জনদের প্রত্যাবর্তনের জন্য অপেক্ষা করা পরিবারগুলো একে অপরকে জড়িয়ে ধরছেন, চোখে জল, শ্যাম্পেনের উচ্ছ্বাস। এক ইসরায়েলি মা বলেন, “মাতান বাড়ি ফিরছে। এ সেই অশ্রু, যার জন্য আমি প্রার্থনা করেছি।”
বন্দি মুক্তি ও বিনিময়: হামাস জানিয়েছে, চুক্তির আওতায় আসন্ন সপ্তাহে ২০ বন্দিকে মুক্তি দেওয়া হবে। চুক্তি স্বাক্ষরের ৭২ ঘণ্টার মধ্যে বন্দি বিনিময় প্রক্রিয়া শেষ হতে পারে।
উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাস গাজায় ২৫১ জনকে বন্দি করে, যার মধ্যে এখনও ৪৭ জন বন্দি রয়েছেন।
যুদ্ধের ফলশ্রুতিতে প্রাণ হারিয়েছে হাজার হাজার মানুষ—ইসরায়েলে প্রায় ১,২০০ জন নিহত এবং ফিলিস্তিনে ৬৭,০০০-এর বেশি প্রাণহানি ঘটেছে, যার মধ্যে অসংখ্য শিশু।
ত্রাণকর্মী আইয়াদ আমাউই বলেন, “আমরা আনন্দের সাথে অবিশ্বাসও অনুভব করছি। আশা করি চুক্তি বাস্তবায়িত হবে এবং মানুষ নতুন করে জীবনের আশা পাবেন।”
তবে চুক্তির বিস্তারিত এখনও স্পষ্ট নয়। ভবিষ্যতে গাজার শাসনব্যবস্থা কেমন হবে এবং হামাস কি নিরস্ত্র হবে কি না তা এখনো অজানা। এই শান্তিচুক্তি বাস্তবায়িত হলে, এটি গত দুই বছরে যুদ্ধ বন্ধের সবচেয়ে বড় পদক্ষেপ হবে, যা মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতি বদলে দিতে পারে।

