জর্ডানের একটি শরণার্থীশিবিরে জন্ম ও শৈশব কাটানো ফিলিস্তিনি বিজ্ঞানী ওমর এম ইয়াঘি ২০২৫ সালে রসায়নে নোবেল পুরস্কার জিতেছেন। এই পুরস্কার তিনি ‘মেটাল-অর্গানিক ফ্রেমওয়ার্ক’ বা ধাতব-জৈব আণবিক কাঠামো আবিষ্কারের জন্য অর্জন করেন। সঙ্গে রয়েছেন আরো দুই বিজ্ঞানী—সুসুমু কিতাগাওয়া ও রিচার্ড রবসন।
নোবেল জয়ের খবর প্রকাশের পর ইয়াঘি বলেন, “আমি বিস্মিত, আনন্দিত ও অভিভূত হয়েছি।” নোবেল প্রাইজ আউটরিচের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা অ্যাডাম স্মিথ জানিয়েছেন, ৬০ বছর বয়সী ইয়াঘি সম্ভবত জর্ডানে জন্ম নেওয়া প্রথম নোবেল বিজয়ী।
ইয়াঘি বলেন, “আমি খুব সাধারণ একটি বাড়িতে বড় হয়েছি। একটি ছোট কক্ষে আমরা অনেকে থাকতাম। আমাদের যে গবাদিপশু ছিল, সেগুলোও একই ঘরে থাকত।”
তিনি আরো যোগ করেন, বিজ্ঞান এমন একটি ক্ষেত্র যেখানে সমান সুযোগ পাওয়া যায় এবং এখানে প্রতিভার বিকাশে মনোনিবেশ করা উচিত।
ইয়াঘির শৈশব কাটে আম্মানের শরণার্থীশিবিরে। ১৫ বছর বয়সে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান। পরে ইলিনয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রসায়নে পিএইচডি অর্জন করেন এবং বর্তমানে ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক হিসেবে কর্মরত।
নোবেলজয়ীর খবর প্রকাশের পর জর্ডানের বাদশাহ আবদুল্লাহ এক্সে লিখেছেন, “জর্ডানের বিজ্ঞানী অধ্যাপক ওমর ইয়াঘি ২০২৫ সালে রসায়নে নোবেল পুরস্কার জেতায় আমরা গর্বিত। তাঁর এ অর্জন জর্ডানের জন্য গর্বের।”
ফিলিস্তিনি সাংবাদিক মোহাম্মদ শেহাদও ইয়াঘির শৈশবের কঠিন পরিবেশের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন। ইয়াঘি বলেন, “আমি সুন্দর জিনিস তৈরি করতে এবং জটিল সমস্যার সমাধান করতে কাজ করে যাচ্ছি।”

