গুরুতর আর্থিক সংকটের কারণে জাতিসংঘ আগামী কয়েক মাসের মধ্যে নয়টি শান্তিরক্ষা মিশন থেকে প্রায় ১৩–১৪ হাজার সেনা ও পুলিশ সদস্য কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
রয়টার্স অনুসারে, এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে সংস্থার বর্তমান বাজেট ঘাটতির কারণে। অনেক বেসামরিক কর্মীর চাকরি হারানোরও ঝুঁকি রয়েছে।
জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্টোনিও গুতেরেস বলেন, “সংস্থা তার ৮০তম বর্ষপূর্তিতে গুরুতর অর্থ সংকটে রয়েছে। আমরা কার্যকারিতা বাড়ানো ও ব্যয় কমানোর নতুন উপায় খুঁজছি।”
জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমের প্রধান অর্থদাতা দেশ যুক্তরাষ্ট্র। তারা মোট বাজেটের প্রায় ২৬% অর্থ প্রদান করে। দ্বিতীয় স্থানে থাকা চীন প্রায় ২৪% অর্থ দেয়। তবে যুক্তরাষ্ট্র বর্তমানে ২.৮ বিলিয়ন ডলারের বকেয়া রেখেছে, যা তহবিলে বড় প্রভাব ফেলেছে।
নতুন অর্থবছরের আগে দেশটির ১.৫ বিলিয়ন ডলারের বকেয়া ছিল, যা বর্তমানে ১.৩ বিলিয়ন ডলার বৃদ্ধি পেয়েছে। যদিও যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, শিগ্রই ৬৮০ মিলিয়ন ডলার পরিশোধ করা হবে।
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ২০২৪ ও ২০২৫ সালের জন্য বরাদ্দকৃত ৮০০ মিলিয়ন ডলার শান্তিরক্ষা তহবিল একতরফাভাবে বাতিল করেছেন। তার প্রশাসনের বাজেট দপ্তর ২০২৬ সাল থেকে সব শান্তিরক্ষা তহবিল বাতিলের প্রস্তাব দিয়েছে। কারণ, তাদের মতে মালি, লেবানন এবং কঙ্গো প্রজাতন্ত্রের মিশনগুলো ব্যর্থ হয়েছে।
এই পদক্ষেপের ফলে দক্ষিণ সুদান, কঙ্গো প্রজাতন্ত্র, লেবানন, কসোভো, সাইপ্রাস, মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্র, পশ্চিম সাহারা, গোলান মালভূমি এবং আবিয়াই অঞ্চলের শান্তিরক্ষী মিশনগুলো প্রভাবিত হবে। উল্লেখ্য, এসব মিশনে বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীরাও নিয়োজিত আছেন।

