ওয়াশিংটনে হোয়াইট হাউসে দাঁড়িয়ে বিশ্বকে আরেক দফা বিস্মিত করলেন সৌদি ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান। জানালেন, যুক্তরাষ্ট্রে সৌদি আরবের বিদ্যমান ৬০০ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগকে প্রায় দ্বিগুণ করে ১ ট্রিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার (১৮ নভেম্বর) মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকের পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে এই ঘোষণা দেন তিনি। পরদিন বুধবার আনাদোলুর প্রতিবেদনে এ তথ্য তুলে ধরা হয়।
মোহাম্মদ বিন সালমান বলেন, “আজ কিংবা কাল আমরা আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করতে পারব যে ৬০০ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগকে বাড়িয়ে প্রায় ১ ট্রিলিয়ন ডলারে নিয়ে যাওয়া হবে।” তাঁর ভাষায়, প্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) এবং আরও অনেক খাতে যুক্তরাষ্ট্র–সৌদি আরব একগুচ্ছ নতুন চুক্তি করছে, যা দুই দেশের জন্যই বিশাল বিনিয়োগ–সুযোগ তৈরি করবে।
এই কথা শুনে ট্রাম্প কিছুটা বিস্ময়ের সুরেই জিজ্ঞেস করেন, “মানে ৬০০ বিলিয়ন এখন ১ ট্রিলিয়ন হয়ে যাচ্ছে?” জবাবে ক্রাউন প্রিন্স হাসিমুখেই বলেন, “অবশ্যই—আজকের চুক্তিগুলোই সেই পথ তৈরি করেছে।”
ট্রাম্পও প্রশংসায় ভরিয়ে দিয়ে বলেন, “যুক্তরাষ্ট্রে ৬০০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগে সম্মত হওয়ায় আমি তাঁকে ধন্যবাদ জানাই। আর তিনি যেহেতু আমার বন্ধু, তাই হয়তো এটাকে ১ ট্রিলিয়নেও নিয়ে যাওয়া যায়— তবে সেটি নিয়ে আমাকে একটু কাজ করতে হবে।”
মার্কিন প্রেসিডেন্ট আরও যোগ করেন, “৬০০ বিলিয়ন তো নিশ্চিতই, তবে এটিকে আরও কিছুটা এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ আছে।”
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত সৌদি রাষ্ট্রদূত প্রিন্সেস রিমা বিনত বান্দার আল সউদ এই বৈঠককে দুই দেশের সম্পর্কের জন্য “একটি গুরুত্বপূর্ণ দিন” হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি জানান, ওয়াশিংটন ও রিয়াদ কয়েকটি বড় দ্বিপক্ষীয় চুক্তি করেছে, যদিও তিনি এসবের বিস্তারিত প্রকাশ করেননি।
সামগ্রিকভাবে, এই ঘোষণা শুধু সৌদি–মার্কিন সম্পর্কেই নতুন গতি আনেনি—বরং বৈশ্বিক বিনিয়োগক্ষেত্রেও বড় ধরনের ইঙ্গিত দিয়ে গেল, যে দুই দেশের সহযোগিতা আগামী দিনে আরও বিস্তৃত হবে।

