ইসরাইলি সেনাবাহিনীর ভেতরে অভূতপূর্ব এক অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে যেসব অর্থনৈতিক সুবিধা তাদের ধরে রেখেছিল, সেগুলোর একটি হঠাৎ স্থগিত হয়ে যাওয়ায় প্রায় ৬০০ কর্মকর্তা ও নন-কমিশন্ড অফিসার একসঙ্গে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন। বিষয়টি দেশটির সামরিক নেতৃত্বকে একদমই অপ্রস্তুত অবস্থায় ফেলেছে।
ইসরাইল হায়োমের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, যারা বাহিনী ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তাদের বড় অংশের বয়স ৪২ বছরের ওপরে। তারা মাস শেষ হওয়ার আগেই পদত্যাগ কার্যকর করতে চাইছেন, কারণ এরপর থেকেই ‘চিফ অব স্টাফ ইনক্রিজ’ নামে পরিচিত সেই আর্থিক সুবিধা আনুষ্ঠানিকভাবে স্থগিত হয়ে যাবে। যেহেতু সুবিধাটি রক্ষার জন্য কোনো আইনগত সুরক্ষাও নেই, তাই তারা আর অপেক্ষা করতে চাইছেন না।
এই আর্থিক সুবিধা বহু বছর ধরে স্থায়ী সেনাসদস্যদের একটি বড় মোটিভেশন হিসেবে কাজ করেছে। গত বছর অর্থ মন্ত্রণালয় ও নিরাপত্তা মন্ত্রণালয় সুবিধাটি বহাল রাখার বিষয়ে একটি সমঝোতায় পৌঁছালেও বিষয়টি নেসেটের পররাষ্ট্র ও প্রতিরক্ষা কমিটিতে আটকে আছে। মূলত এমকে আমিত হালেভির আপত্তির কারণেই অচলাবস্থা কাটছে না। ফলে সেনাসদস্যদের মধ্যে ক্ষোভ আরও বেড়ে উঠছে।
গাজায় চলমান যুদ্ধের মধ্যে এমন বড় ধরনের ভাঙন তৈরি হওয়া ইসরাইলি সামরিক বাহিনীর জন্য উদ্বেগজনক। কর্মী সংকটে জর্জরিত বাহিনী প্রথমে এই বিতর্ক থেকে দূরে থাকার চেষ্টা করেছিল। কিন্তু সুপ্রিম কোর্টের সময়সীমা ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে আইওএফ এখন দ্রুত আইনগত সমাধান পেতে মরিয়া হয়ে লবিং করছে।
এদিকে ক্রমবর্ধমান চাপের মুখে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু খুব শিগগিরই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য একটি জরুরি বৈঠক আহ্বান করতে পারেন— এমন ইঙ্গিত দিয়েছে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম।

