ইউরোপে অবস্থানরত রাশিয়ার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সম্পদ অনির্দিষ্টকালের জন্য জব্দ রাখার বিষয়ে সম্মত হয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। ইউক্রেনকে রাশিয়ার বিরুদ্ধে আত্মরক্ষায় অর্থনৈতিক সহায়তা অব্যাহত রাখতেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইইউ সদস্যরাষ্ট্রগুলো।
ইইউ নেতারা মনে করছেন, রাশিয়ার আগ্রাসন ইউরোপের সামগ্রিক নিরাপত্তার জন্য একটি গুরুতর হুমকি। সে কারণে ইউক্রেনকে আর্থিকভাবে সহায়তা দিয়ে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার সক্ষমতা ধরে রাখাকে তারা কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচনা করছে। এই লক্ষ্য পূরণে ২০২২ সালে ইউক্রেনে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার আগ্রাসনের পর যেসব রুশ সার্বভৌম সম্পদ স্থগিত করা হয়েছিল, সেগুলোর একটি অংশ ব্যবহারের পথ খুলে দেওয়া হচ্ছে।
শুক্রবার ইইউ সরকারগুলো একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে একমত হয়। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ইউরোপে জব্দ থাকা প্রায় ২১০ বিলিয়ন ইউরো মূল্যের রুশ সার্বভৌম সম্পদ প্রয়োজন অনুযায়ী যতদিন দরকার ততদিন স্থগিত রাখা হবে। এর ফলে ভবিষ্যতে হাঙ্গেরি বা স্লোভাকিয়ার মতো কিছু সদস্যরাষ্ট্র— যাদের সঙ্গে মস্কোর সম্পর্ক তুলনামূলকভাবে ভালো— জব্দের মেয়াদ বাড়াতে আপত্তি জানাতে পারবে না। এমন আপত্তি উঠলে ইইউকে ওই অর্থ রাশিয়াকে ফেরত দিতে হতো বলে আশঙ্কা করা হচ্ছিল।
ইইউর পরিকল্পনা অনুযায়ী, জব্দ করা রুশ সম্পদের ভিত্তিতে ইউক্রেনকে সর্বোচ্চ ১৬৫ বিলিয়ন ইউরো পর্যন্ত ঋণ দেওয়া হবে। এই অর্থ ২০২৬ ও ২০২৭ সালে ইউক্রেনের সামরিক ও বেসামরিক বাজেটের প্রয়োজন মেটাতে ব্যবহার করা হবে।
এই ঋণ পরিশোধের শর্তও নির্ধারণ করা হয়েছে ভিন্নভাবে। ইউক্রেন তখনই ঋণ ফেরত দেবে, যখন রাশিয়া যুদ্ধের কারণে সৃষ্ট ক্ষয়ক্ষতির জন্য কিয়েভকে ক্ষতিপূরণ প্রদান করবে। ফলে বাস্তবে এই ঋণ কার্যত অনুদানে পরিণত হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

