ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির জেলেনস্কি যদি জাতীয় নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেন, তাহলে নির্বাচনকালীন সময় অন্তত সাময়িকভাবে হামলা বন্ধ রাখবে রুশ বাহিনী— এমন ঘোষণা দিয়েছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন।
শনিবার রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় বার্তাসংস্থা রাশিয়ান টেলিভিশন (আরটি)-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে পুতিন বলেন, ইউক্রেনে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলে ভোটের দিন দেশটির অভ্যন্তরে হামলা চালানো থেকে বিরত থাকতে প্রস্তুত রয়েছে রুশ সেনাবাহিনী। তিনি বলেন, নির্বাচনকালীন নিরাপত্তার স্বার্থে রাশিয়া এ ধরনের পদক্ষেপ নিতে রাজি।
পুতিন আরো বলেন, সীমান্ত পেরিয়ে যারা ইউক্রেন থেকে রাশিয়ার ভূখণ্ডে আশ্রয় নিয়েছেন, তারাও ভোট দেওয়ার জন্য ইউক্রেনে যেতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে রুশ বাহিনী কোনো ধরনের বাধা দেবে না। তবে একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করে বলেন, নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর যদি ইউক্রেন যুদ্ধবিরতির সুযোগকে কাজে লাগিয়ে অস্ত্র ও সেনা মজুত শুরু করে, তাহলে তার পরিণতি অত্যন্ত ভয়াবহ হবে।
অন্যদিকে, ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির জেলেনস্কি তার দেশে নতুন নির্বাচন আয়োজনের বিষয়ে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের আহ্বান প্রত্যাখ্যান করেছেন। তিনি বলেছেন, “ইউক্রেনে নির্বাচন কখন হবে এবং কোন ফরম্যাটে হবে, তা নির্ধারণ করবে ইউক্রেন নিজেই। এ বিষয়ে পুতিনের কিছু বলার এখতিয়ার নেই।” তিনি আরো বলেন, ভবিষ্যতের ইউক্রেনীয় প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে পুতিন কোনোভাবেই প্রভাব ফেলতে পারবেন না।
উল্লেখ্য, ইউক্রেনে সর্বশেষ প্রেসিডেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল ২০১৯ সালের মে মাসে। ওই নির্বাচনে জয়ী হয়ে ২০ মে প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেন ভ্লাদিমির জেলেনস্কি। ইউক্রেনের সংবিধান অনুযায়ী প্রেসিডেন্টের মেয়াদ পাঁচ বছর, ফলে ২০২৪ সালের মে মাসে জেলেনস্কির বৈধ মেয়াদ শেষ হয়।
২০২৪ সালের মে মাসের পর থেকে একাধিকবার ইউক্রেনে নির্বাচনের দাবি উঠলেও দেশটিতে যুদ্ধ চলছে— এই যুক্তিতে প্রতিবারই নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন জেলেনস্কি। একই সঙ্গে দফায় দফায় সামরিক আইনের মেয়াদ বাড়িয়ে তিনি ক্ষমতায় বহাল রয়েছেন।
জেলেনস্কির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর থেকেই মস্কো দাবি করে আসছে, মেয়াদোত্তীর্ণ প্রেসিডেন্ট বা তার প্রশাসনের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি নিয়ে সংলাপে বসতে আগ্রহী নয় রাশিয়া। পুতিন আগেই বলেছিলেন, জেলেনস্কি যদি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেন, তাহলে নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত নতুন সরকারের সঙ্গে আলোচনায় আপত্তি থাকবে না। এমনকি জেলেনস্কি পুনর্নির্বাচিত হলেও সংলাপে প্রস্তুত থাকবে মস্কো।
তবে ইউক্রেনের ইউরোপীয় মিত্র দেশগুলো, যুক্তরাষ্ট্রের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের নেতৃত্বাধীন প্রশাসন এবং জেলেনস্কি নিজে রাশিয়ার এই প্রস্তাবকে গুরুত্ব দেননি।
পরিস্থিতিতে পরিবর্তন আসে ডোনাল্ড ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর। ২০২৫ সালে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই তিনি রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে ধারাবাহিক উদ্যোগ চালিয়ে যাচ্ছেন। ট্রাম্পের চাপের মুখেই সম্প্রতি জেলেনস্কি ঘোষণা দেন, আগামী ৯০ দিনের মধ্যে ইউক্রেনে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

