সোমালিল্যান্ডকে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র’ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে ইসরায়েল। এই স্বীকৃতির পর দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনের জন্য একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। গতকাল শুক্রবার ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর দপ্তরের এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু সোমালিল্যান্ড প্রজাতন্ত্রকে স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। এ ঘোষণা অনুযায়ী, সোমালিল্যান্ডকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া প্রথম দেশ হলো ইসরায়েল।
বিবৃতিতে আরো উল্লেখ করা হয়েছে, এই পদক্ষেপ আব্রাহাম চুক্তির চেতনার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। এতে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে ইসরায়েল ও কয়েকটি আরব দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত একাধিক চুক্তির কথাও উল্লেখ করা হয়।
সোমালিল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট আবদিরাহমান মোহাম্মদ আবদুল্লাহি স্বীকৃতিটি স্বাগত জানিয়ে বলেন, এটি ‘কৌশলগত অংশীদারিত্বের’ সূচনা। এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, এটি এক ঐতিহাসিক মুহূর্ত। আমরা ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী পক্ষ থেকে স্বীকৃতিকে আন্তরিকভাবে স্বাগত জানাই এবং সোমালিল্যান্ডের পক্ষ থেকে ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে আব্রাহাম চুক্তিতে যোগ দেওয়ার প্রস্তুতির পুনর্ব্যক্তি করছি।
১৯৯১ সালে স্বাধীনতা ঘোষণা করা সোমালিল্যান্ড দীর্ঘদিন ধরে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির জন্য চেষ্টা চালিয়ে আসছে। গত বছর দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে প্রেসিডেন্ট আবদুল্লাহির কাছে এটি ছিল অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার।
পৃথক এক বিবৃতিতে ইসরায়েলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিদেওন সার জানিয়েছেন, দুই দেশ ‘পূর্ণ কূটনৈতিক সম্পর্ক’ স্থাপনের বিষয়ে সম্মত হয়েছে; যার মধ্যে রাষ্ট্রদূত নিয়োগ ও দূতাবাস খোলার বিষয় অন্তর্ভুক্ত। এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি আরও জানান, দুই দেশের মধ্যে বিভিন্ন ক্ষেত্রে সম্পর্ক প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে তার মন্ত্রণালয়কে তাৎক্ষণিকভাবে কাজ শুরু করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
নেতানিয়াহুর দপ্তর জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রী সোমালিল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট আবদুল্লাহিকে ইসরায়েল সফরের জন্য আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। প্রেসিডেন্ট ঐতিহাসিক ঘোষণার জন্য নেতানিয়াহুকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন।

