সিরিয়ার বিভিন্ন শহরে দেশটির নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদপন্থি শিয়া মতাবলম্বী আলাউইত সম্প্রদায়ের সদস্যদের মধ্যে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়েছে। রোববার এসব সংঘর্ষে এখন পর্যন্ত অন্তত ৩ জন নিহত হয়েছে এবং আরো ৬০ জনের বেশি মানুষ আহত হয়েছে। নিহতদের মধ্যে নিরাপত্তা বাহিনীর অন্তত ১ জন সদস্য রয়েছেন।
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, লাতাকিয়া, তারতুস ও জাবলেহসহ সিরিয়ার উপকূলীয় ও মধ্যাঞ্চলের একাধিক শহরে আলাউইত সম্প্রদায়ের সদস্যদের বিক্ষোভ চলাকালে ব্যাপক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করা হলে দুই পক্ষের মধ্যে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে।
সিরিয়ার হোমস শহরের একটি মসজিদে বোমা হামলায় ৮ জন নিহত হওয়ার ঘটনার দুই দিন পর রোববার শত শত আলাউইত সিরীয় রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ শুরু করেন। বিক্ষোভকারীরা ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের সশস্ত্র বাহিনী থেকে আটক কর্মকর্তাদের মুক্তি এবং তাদের চাকরিতে পুনর্বহালের দাবি জানান। তারতুস ও লাতাকিয়ায় এসব দাবিতে ব্যাপক বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়।
ঘটনাস্থল থেকে আল জাজিরার একজন প্রতিবেদক জানান, লাতাকিয়ার আজহারি গোলচত্বরে নিরাপত্তা বাহিনীকে লক্ষ্য করে গুলিবর্ষণ করা হয়। একই সময়ে তারতুসের বানিয়াস এলাকায় অবস্থিত আল-আনাজা পুলিশ স্টেশনে অজ্ঞাত হামলাকারীরা হাতবোমা নিক্ষেপ করে। এতে সেনাবাহিনীর দুই সদস্য আহত হন।
তবে বিক্ষোভকারীদের ওপর গুলি চালানোর অভিযোগ সিরীয় কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেনি। কর্তৃপক্ষের দাবি, পরিস্থিতি তাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। মসজিদে বোমা হামলার পর প্রবাসে বসবাসরত আলাউইত ইসলামিক কাউন্সিলের প্রধান গাজাল গাজাল দেশজুড়ে বিক্ষোভের ডাক দেন।
বিক্ষোভ চলাকালে নিরাপত্তা বাহিনীর কড়া উপস্থিতির মধ্যেও বিক্ষোভকারীরা ফেডারেল শাসনব্যবস্থা চালুর দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন। তাদের হাতে গাজাল গাজালের ছবি ও তার প্রতি সমর্থনসূচক ব্যানার দেখা যায়। একই সঙ্গে প্ল্যাকার্ডে ‘সাম্প্রদায়িক বক্তব্য বন্ধ’-এর দাবিও জানানো হয়।
লাতাকিয়ার বাসিন্দা ৪০ বছর বয়সী গৃহিণী হাদিল সালহা বলেন, রক্তপাত বন্ধ করতে দ্রুত ফেডারেল ব্যবস্থা চালু করা তাদের প্রধান দাবি। তিনি বলেন, আলাউইতদের রক্ত যেমন সস্তা নয়, তেমনি সাধারণ সিরীয়দের রক্তও সস্তা নয়। তার অভিযোগ, আলাউইত পরিচয়ের কারণেই তাদের লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, গত বছরের ডিসেম্বরে বিদ্রোহীদের সশস্ত্র অভিযানের মুখে বাশার আল-আসাদ নেতৃত্বাধীন সরকারের পতন ঘটে। এর মধ্য দিয়ে সিরিয়ায় প্রায় ১৪ বছর ধরে চলা গৃহযুদ্ধের অবসান হলেও পরবর্তী সময়ে দেশটিতে একাধিক সাম্প্রদায়িক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটছে।

