গাজা উপত্যকা নিয়ন্ত্রণকারী ফিলিস্তিনি রাজনৈতিক গোষ্ঠী হামাস এই প্রথমবারের মতো প্রকাশ্যে স্বীকার করেছে যে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বাহিনীর (আইডিএফ) সঙ্গে যুদ্ধে গোষ্ঠীটির সামরিক শাখা ইজেদিন আল-কাসাম ব্রিগেডের একাধিক শীর্ষ নেতা ও জ্যেষ্ঠ কমান্ডার নিহত হয়েছেন।
নিহতদের মধ্যে রয়েছেন আল-কাসাম ব্রিগেডের প্রধান মোহাম্মদ সিনওয়ার এবং সংগঠনটির দীর্ঘদিনের মুখপাত্র আবু উবেইদা।
সোমবার প্রকাশিত এক ভিডিওবার্তায় এই তথ্য জানায় হামাস। ভিডিওতে বক্তব্য দেওয়া এক ব্যক্তিকে বলতে শোনা যায়, তারা গর্বের সঙ্গে মুখপাত্র আবু উবেইদার ‘শাহাদাত’ ঘোষণা করছেন এবং তিনি তার উত্তরাধিকার বহন করবেন। ভিডিওবার্তায় ওই ব্যক্তি নিজেকে হামাসের নতুন মুখপাত্র হিসেবে পরিচয় দিলেও নিজের নাম প্রকাশ করেননি। তার মাথা ও মুখ কাপড়ে ঢাকা থাকায় পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলের ভূখণ্ডে চালানো ভয়াবহ হামলার মূল পরিকল্পনাকারী ছিলেন হামাসের গাজা শাখার তৎকালীন প্রধান ইয়াহিয়া সিনওয়ার। ইসরায়েলের দাবি অনুযায়ী, তিনি ২০১৪ সালের ১৬ অক্টোবর আইডিএফের অভিযানে নিহত হন।
ইয়াহিয়া সিনওয়ারের মৃত্যুর পর তার ভাই মোহাম্মদ সিনওয়ার হামাসের গাজা শাখার শীর্ষ নেতা এবং ইজেদিন আল-কাসাম ব্রিগেডের প্রধান নির্বাহী হিসেবে দায়িত্ব নেন। ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বাহিনীর তথ্যমতে, চলতি বছরের মে মাসে মোহাম্মদ সিনওয়ার নিহত হন। তার প্রায় তিন মাস পর আগস্টে নিহত হন সংগঠনটির মুখপাত্র আবু উবেইদা।
সোমবারের ভিডিওবার্তায় নতুন মুখপাত্র আরও তিনজন জ্যেষ্ঠ সামরিক কমান্ডারের মৃত্যুর তথ্যও নিশ্চিত করেছেন। তারা হলেন—আল-কাসাম ব্রিগেডের রাফা ব্রিগেডের শীর্ষ কমান্ডার মোহাম্মেদ শাবানা, হামাসের সামরিক প্রশিক্ষণ বিভাগের প্রধান হাকাম আল ইসা এবং আল-কাসাম ব্রিগেডের সাবেক অপারেশনস বিভাগের কমান্ডার রায়েদ সাদ।
এই স্বীকারোক্তিকে গাজায় চলমান যুদ্ধে হামাসের নেতৃত্ব কাঠামোয় বড় ধরনের ক্ষতির ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে।

