গাজায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকার পরও ইসরায়েল শান্তি চুক্তির শর্ত মেনেই চলছে বলে মনে করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে ইসরায়েলি অভিযানে অন্তত ৪১৪ ফিলিস্তিনি নিহত হলেও বিষয়টি নিয়ে তিনি উদ্বিগ্ন নন বলে মন্তব্য করেছেন ট্রাম্প। সূত্র: বিবিসি
গতকাল সোমবার ফ্লোরিডায় ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে বৈঠকের পর যৌথ সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প বলেন, গাজা শান্তি পরিকল্পনার দ্বিতীয় ধাপে ‘খুব দ্রুত’ পৌঁছানোর বিষয়ে তিনি আশাবাদী। তাঁর ভাষায়, ইসরায়েল পরিকল্পনাটি ‘শতভাগ মেনে চলছে’।
ট্রাম্প প্রস্তাবিত গাজা শান্তি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। দ্বিতীয় ধাপে কত দ্রুত অগ্রসর হওয়া উচিত—এ প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, যত দ্রুত সম্ভব অগ্রগতি হওয়া দরকার, তবে হামাসের নিরস্ত্রীকরণ অবশ্যই হতে হবে।
হামাসকে উদ্দেশ করে ট্রাম্প বলেন, তারা যদি প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী অস্ত্র সমর্পণ না করে, তাহলে তাদের জন্য ভয়াবহ পরিণতি অপেক্ষা করছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, হামাসকে দ্রুততম সময়ের মধ্যেই অস্ত্র সমর্পণ করতে হবে।
ট্রাম্প আরো জানান, গাজায় পুনর্গঠন কার্যক্রম খুব শিগগিরই শুরু হতে পারে। তাঁর মতে, পরিকল্পনার দ্বিতীয় ধাপে পৌঁছানো গেলে বিধ্বস্ত এ ভূখণ্ডে নতুন করে স্থিতিশীলতা ফেরানো সম্ভব হবে।
গত অক্টোবরে কার্যকর হওয়া গাজা শান্তি পরিকল্পনার দ্বিতীয় ধাপে একটি টেকনোক্রেটিক সরকার গঠন, হামাসকে নিরস্ত্র করা এবং ইসরায়েলি সেনাদের প্রত্যাহারের কথা বলা হয়েছে। এরপর গাজার পুনর্গঠন কার্যক্রম শুরু করার রূপরেখা রয়েছে।
তবে সমালোচকদের মতে, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু পরিকল্পনার বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া বিলম্বিত করতে পারেন এবং সেনা প্রত্যাহারের আগে হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের জন্য অতিরিক্ত চাপ প্রয়োগ করতে পারেন। তাঁর বিরুদ্ধে ফিলিস্তিনিদের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ বিষয়ে পর্যাপ্ত গুরুত্ব না দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।
অন্যদিকে হামাসের কর্মকর্তারা বলেছেন, একটি স্বাধীন ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পথে দৃশ্যমান অগ্রগতি হলেই পূর্ণ নিরস্ত্রীকরণের প্রশ্ন বিবেচনায় আসা উচিত।
পরিকল্পনার দ্বিতীয় ধাপ বাস্তবায়নে ইসরায়েল যথেষ্ট দ্রুত কাজ করছে কি না—এ বিষয়ে জানতে চাইলে ট্রাম্প বলেন, ইসরায়েল শর্ত মেনেই চলছে এবং তারা যা করছে তা নিয়ে তিনি মোটেও উদ্বিগ্ন নন। বরং অন্য পক্ষগুলো কী করছে বা করছে না, সেটিই তাঁর উদ্বেগের বিষয়।
হামাস-নিয়ন্ত্রিত গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে ইসরায়েলি অভিযানে অন্তত ৪১৪ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। একই সময়ে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, তারা কেবল যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের জবাব হিসেবেই গুলি চালিয়েছে এবং তিনজন ইসরায়েলি সেনা নিহত হওয়ার জন্য হামাসকে দায়ী করেছে।
এদিকে সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প ইরান প্রসঙ্গেও কড়া হুঁশিয়ারি দেন। তিনি বলেন, ইরান যদি পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির জন্য নতুন কোনো স্থাপনা ব্যবহার করছে বলে প্রমাণ পাওয়া যায়, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র দেশটির ওপর আরও হামলা চালাবে।
গত জুনে যুক্তরাষ্ট্রের বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলো ‘পুরোপুরি ধ্বংস’ হয়েছে বলে দাবি করেছিলেন ট্রাম্প। যদিও ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির চেষ্টা করছে—এ অভিযোগ বারবার অস্বীকার করে আসছে।
ট্রাম্প বলেন, তিনি আশা করেন ইরান আবার সেই কার্যক্রম গড়ে তোলার চেষ্টা করছে না। কারণ, তা হলে ওই কার্যক্রম সম্পূর্ণভাবে নিশ্চিহ্ন করা ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের আর কোনো উপায় থাকবে না।

