ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর ওপর চাপ আরো বাড়াতে দেশটির তেল খাতের ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে যুক্তরাষ্ট্র। বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) ট্রাম্প প্রশাসন ভেনেজুয়েলার তেল খাতে যুক্ত চারটি কোম্পানি এবং তাদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ট্যাঙ্কারগুলোকে লক্ষ্য করে এই নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে।
ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে।
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পদক্ষেপের অংশ হিসেবে ওই অঞ্চলে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি বৃদ্ধি করা হয়েছে। এছাড়া প্রশান্ত মহাসাগর ও ক্যারিবীয় অঞ্চলে মাদকপাচারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সন্দেহে দুই ডজনেরও বেশি জাহাজে অভিযান চালানো হয়েছে। চলতি মাসের শুরুতে ট্রাম্প ভেনেজুয়েলার জলসীমায় আসা-যাওয়া করা সব নিষেধাজ্ঞাপ্রাপ্ত জাহাজের ওপর অবরোধ ঘোষণা করেন। ফলে দেশটির তেল রফতানি গত নভেম্বরের তুলনায় প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বিভাগ জানিয়েছে, মাদুরো সরকারকে নিষেধাজ্ঞা এড়াতে সহায়তা করা তেল ব্যবসায়ীদের লক্ষ্য করে এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। নিষেধাজ্ঞার তালিকায় থাকা চারটি ট্যাঙ্কারের মধ্যে কয়েকটিকে ‘শ্যাডো ফ্লিট’ বা ছায়া বহরের অংশ হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে।
ছায়া বহরে সাধারণত পুরনো জাহাজ থাকে, যাদের মালিকানা অস্পষ্ট থাকে এবং আন্তর্জাতিক বিমা সুবিধাও থাকে না। ট্রেজারি বিভাগ সতর্ক করে বলেছে, যারা ভেনেজুয়েলার তেল বাণিজ্যে যুক্ত হবে, তারা বড় ধরনের নিষেধাজ্ঞার ঝুঁকিতে পড়বেন।
নিষিদ্ধ জাহাজগুলোর মধ্যে রয়েছে পানামার পতাকাবাহী ‘নর্ড স্টার’, গিনির পতাকাবাহী ‘লুনার টাইড’, হংকংয়ের পতাকাবাহী ‘ডেলা’ এবং অ্যারিস গ্লোবাল ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেডের মালিকানাধীন হংকংয়ের সুপারট্যাঙ্কার ‘ভ্যালিয়ান্ট’। ভেনেজুয়েলার রাষ্ট্রীয় জ্বালানি সংস্থা পিডিভিএসএ-এর নথি অনুযায়ী, এই জাহাজগুলো চলতি বছরে এশিয়া ও ক্যারিবীয় অঞ্চলে তেল পরিবহন করেছে।
ট্র্যাকিং তথ্য অনুযায়ী, ‘ডেলা’ নামের সুপারট্যাঙ্কারটি চলতি মাসে তেল লোড করার কথা থাকলেও মার্কিন কোস্ট গার্ডের তৎপরতার কারণে ২১ ডিসেম্বর যাত্রাপথ পরিবর্তন করে এশিয়ার দিকে চলে যায়।
যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট বলেন, “প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প স্পষ্ট করে দিয়েছেন, মাদুরোর অবৈধ সরকারকে তেল রফতানি করে মুনাফা করতে দেওয়া হবে না।”
তবে মাদুরো সরকার এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে। তাদের দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের লক্ষ্য দেশটির বিশাল তেলের মজুদ দখল করা ও সরকারের পরিবর্তন ঘটানো।
মার্কিন অবরোধের ফলে ভেনেজুয়েলার রফতানি কার্যক্রম প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে। স্থলভাগের ট্যাঙ্কারে তেল মজুত হওয়ার কারণে পিডিভিএসএ শোধনাগার সচল রাখতে চরম সংকটের মুখে পড়েছে, এমনটাই জানিয়েছে রয়টার্স।

