রাশিয়ায় নববর্ষ উদযাপনকে লক্ষ্য করে ইউক্রেনীয় বাহিনীর ড্রোন হামলায় কমপক্ষে ২৪ জন নিহত হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন আরো অন্তত ৫০ জন। কৃষ্ণ সাগরের তীরবর্তী রুশ গ্রাম খোরলিতে বুধবার রাতের এই হামলার ঘটনা ঘটে। ইউক্রেনের খেরসন প্রদেশের রাশিয়া নিয়ন্ত্রিত এলাকায় অবস্থিত ওই গ্রামে নববর্ষ উদযাপনের আয়োজন চলছিল।
খেরসনের রুশ নিয়ন্ত্রিত এলাকার গভর্নর ভ্লাদিমির স্যালদো বৃহস্পতিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টেলিগ্রামে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
বিবৃতিতে স্যালদো জানান, নববর্ষ উপলক্ষে খোরলির একটি হোটেলের লনে বিপুল সংখ্যক মানুষ জড়ো হয়েছিলেন। তাদের সমবেত হওয়ার আগেই সন্ধ্যার দিকে একটি গোয়েন্দা ড্রোন এলাকা পর্যবেক্ষণ করে যায় বলে জানা গেছে।
তিনি বলেন, রাত ১২টা বাজার কিছুক্ষণ আগে সমবেত জনতার ওপর পরপর তিনটি বিস্ফোরকবাহী ড্রোন আছড়ে পড়ে। এতে হোটেলের লন এবং আশপাশের ভবনে আগুন ধরে যায়। তিনটি ড্রোনের মধ্যে অন্তত একটি ড্রোনে বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক বহন করা হয়েছিল বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।
ভ্লাদিমির স্যালদো তার বক্তব্যে ২০১৪ সালে ইউক্রেনের ওডেসায় সংঘটিত এক সহিংস ঘটনার সঙ্গে এই হামলার তুলনা করেন। তিনি বলেন, সে সময় ইউক্রেনের উগ্র জাতীয়তাবাদীরা ২৪ জন সরকারবিরোধী আন্দোলনকারীকে একটি ভবনে আটকে আগুন ধরিয়ে দিয়েছিল এবং তারা জীবন্ত পুড়ে মারা যান। স্যালদোর ভাষায়, সেই ঘটনার সঙ্গেই কেবল খোরলির হামলার তুলনা করা যায়।
তিনি আরো বলেন, ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি যে শান্তির কথা বলছেন, বাস্তবে তার চিত্র এটি নয়।
এদিকে রাশিয়ার রাজধানী মস্কোর মেয়র সের্গেই সোবিয়ানিন এক পৃথক বিবৃতিতে জানান, নববর্ষ উদযাপনকে লক্ষ্য করে বুধবার রাতে মস্কোর বিভিন্ন এলাকায় ইউক্রেনীয় বাহিনী অন্তত নয়টি বিস্ফোরকবাহী ড্রোন নিক্ষেপ করে। তবে সেগুলো লক্ষ্যবস্তুতে পৌঁছানোর আগেই রাশিয়ার বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংস করতে সক্ষম হয়।
এই হামলার বিষয়ে ইউক্রেনীয় বাহিনীর পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।

