২০২৫ সালে আটলান্টিক মহাসাগর পাড়ি দিয়ে স্পেনে যাওয়ার পথে অন্তত ৩ হাজার ৯০ জন অভিবাসনপ্রত্যাশী নিহত হয়েছেন। নৌকাডুবির ঘটনায় প্রাণ হারান এসব অভিবাসনপ্রত্যাশী।
স্পেনভিত্তিক অভিবাসী অধিকার সংস্থা কামিনান্দো ফ্রন্তেয়ার্স গতকাল বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিহতদের মধ্যে ১৯২ জন নারী এবং ৪৩৭ জন শিশু রয়েছেন। প্রাণ হারানো এসব অভিবাসনপ্রত্যাশী মোট ৩০টি দেশের নাগরিক।
নিহতদের বড় অংশই পূর্ব ও উত্তর আফ্রিকার বিভিন্ন দেশের নাগরিক। এছাড়া পাকিস্তান, সিরিয়া, ইয়েমেন, সুদান, ইরাক এবং মিসরের অভিবাসনপ্রত্যাশীরাও রয়েছেন নিহতদের তালিকায়।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, সাগরপথে স্পেনে পৌঁছানোর প্রধান রুটটি উত্তর আফ্রিকার দেশ মৌরিতানিয়ার উপকূল দিয়ে শুরু হয়। এই উপকূল থেকে রওনা হয়ে আটলান্টিক মহাসাগর পাড়ি দিয়ে স্পেনের ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জে পৌঁছাতে হয়। ইঞ্জিনচালিত নৌযানে এ পথ অতিক্রম করতে সাধারণত প্রায় ১২ দিন সময় লাগে।
বছরের অধিকাংশ সময়েই এই রুটটি অত্যন্ত বিপজ্জনক থাকে। প্রতিকূল আবহাওয়া, দুর্বল নৌযান এবং দীর্ঘ সমুদ্রযাত্রার কারণে প্রাণহানির ঝুঁকি থাকে সর্বদা। তবুও বিকল্প কোনো নিরাপদ পথ না থাকায় স্পেনে পৌঁছাতে ইচ্ছুক অভিবাসনপ্রত্যাশীরা এই বিপদসঙ্কুল পথ বেছে নিতে বাধ্য হন।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালে মৌরিতানিয়া-ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জ রুটে মৃত ও নিখোঁজের সংখ্যা আগের বছর ২০২৪ সালের তুলনায় কম। ২০২৪ সালে এই একই রুটে প্রাণ হারিয়েছিলেন ১০ হাজার ৫৪৭ জন অভিবাসনপ্রত্যাশী।
তবে অভিবাসী অধিকারকর্মীরা সতর্ক করে বলেছেন, মৃতের সংখ্যা কমে যাওয়া মানেই এই সাগরপথ নিরাপদ হয়ে গেছে— এমনটি ভাবার কোনো সুযোগ নেই। বিপজ্জনক এই সাগরপথে অভিবাসনপ্রত্যাশীদের যাতায়াত কমাতে সীমান্ত বিধিনিষেধ শিথিল করার আহ্বানও জানিয়েছেন তারা।

