ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর বলেছেন, তাদের প্রত্যাশা হলো—নির্বাচনের পর পরিস্থিতি স্থিতিশীল হলে এ অঞ্চলে সুপ্রতিবেশীসুলভ চেতনা আরো বৃদ্ধি পাবে। গতকাল শুক্রবার চেন্নাইয়ে আইআইটি মাদ্রাজের টেকনো-এন্টারটেইনমেন্ট ফেস্ট ২০২৬ উদ্বোধন অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন।
জয়শঙ্কর সম্প্রতি বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানাতে ঢাকায় সফর করেন। সেখানে ভারতকে প্রতিনিধিত্ব করার পর দেশে ফিরে তিনি বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং প্রতিবেশীদের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তর দেন।
চেন্নাইয়ে সাংবাদিকরা বাংলাদেশে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পালাবদল, ভারতের নিরাপত্তা এবং ‘প্রতিবেশী প্রথম’ নীতি সম্পর্কে প্রশ্ন করলে জয়শঙ্কর বলেন, “দুদিন আগে আমি বাংলাদেশে গিয়েছিলাম; সাবেক প্রধানমন্ত্রীর শেষ শ্রদ্ধায় ভারতকে প্রতিনিধিত্ব করতে গিয়েছিলাম। এ মুহূর্তে বাংলাদেশ নির্বাচনের দিকে এগোচ্ছে। নির্বাচন নিয়ে আমরা তাদের শুভেচ্ছা জানিয়েছি। আমাদের প্রত্যাশা, নির্বাচনের পর পরিস্থিতি স্থিতিশীল হলে এই অঞ্চলে সুপ্রতিবেশীসুলভ মনোভাব আরো দৃঢ় হবে।”
তিনি আরো বলেন, “ভারত প্রতিবেশী দেশগুলোর স্থিতিশীলতায় বিশ্বাসী। ভারতের প্রতিবেশীদের দুই ধরনের দৃষ্টিভঙ্গি আছে—ভালো ও মন্দ। তবে অধিকাংশ মনে করে, ভারতের অর্থনৈতিক উন্নতি হলে তারা ও উপকৃত হবে। ভারতের উন্নতির সঙ্গে তাদেরও উন্নতি সম্পর্কিত। ভারতের পররাষ্ট্রনীতি পুরো বিশ্বকে এক পরিবারের মতো বিবেচনা করে এবং শক্তি ও অংশীদারিত্বের মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করে। বাংলাদেশে যাওয়ার সময়ও আমি এই বার্তাই পৌঁছে দিয়েছি।”
এর আগে জয়শঙ্কর প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে ভারতের আচরণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে বলেন, “সাধারণভাবে প্রতিবেশীর সঙ্গে সবসময় সদয় আচরণ করা হয়। কোনো প্রতিবেশী অসুবিধায় পড়লে সাহায্যের হাত বাড়ানো হয়। কম-বেশি বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় থাকে। বিনিয়োগ ও সহযোগিতার মাধ্যমে সম্পর্ক দৃঢ় করা হয়। ভারতের প্রতিবেশীদের ক্ষেত্রে এটি সুপ্রতিবেশীসুলভ মনোভাবের প্রতিফলন।”
তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন, “কোভিডের সময় অধিকাংশ প্রতিবেশী দেশ ভারত থেকে প্রথম প্রতিষেধক পেয়েছে। ইউক্রেন যুদ্ধ চলাকালীন খাদ্য, সার ও জ্বালানি সংকট দেখা দিলে ভারত সাহায্যের হাত বাড়িয়েছে। শ্রীলঙ্কার সংকটের সময় চার বিলিয়ন ডলার অর্থ সাহায্য করেছে। সম্প্রতি ‘দ্বিতীয়া’ সাইক্লোনের সময়ও শ্রীলঙ্কার জন্য প্রথম সাহায্য পাঠিয়েছে ভারত। বিপদের সময় ভারত আছে এবং সাহায্য করতে এগিয়ে আসে। ভারতকে নির্ভরযোগ্য মনে করা যায়।”

