ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে যুক্তরাষ্ট্র তুলে নিয়ে যাওয়ার পর বিশ্ববাজারে তেলের দামে বড় ধরনের প্রভাব পড়বে বলে ধারণা করা হয়েছিল। তবে বাস্তবে তার উল্টো চিত্র দেখা গেছে। শনিবার বিশ্ববাজারে তেলের দাম সামান্য কমেছে।
অয়েল প্রাইস ডট কমের তথ্য অনুযায়ী, ব্রেন্ট ক্রুডের দাম শূন্য দশমিক ১৬ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ৬০ ডলার ৭৫ সেন্টে নেমেছে। একই দিনে ডব্লিউটিআই ক্রুডের দাম শূন্য দশমিক ১৭ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ৫৭ ডলার ৩২ সেন্টে। অন্যান্য তেলের দামও একই দিনে নিম্নমুখী ছিল।
বিশ্লেষকেরা বলছেন, আগের মতো ভূরাজনৈতিক উত্তেজনায় এখন আর তেলের বাজার বড়ভাবে প্রতিক্রিয়া দেখায় না। আধুনিক প্রযুক্তি ও তাৎক্ষণিক তথ্যপ্রবাহের কারণে বিনিয়োগকারীরা আগেই সরবরাহ ও চাহিদার সম্ভাব্য চিত্র সম্পর্কে ধারণা পেয়ে যান। ফলে বড় সামরিক অভিযান বা রাজনৈতিক ঘটনার পরও তেলের দামে প্রভাব পড়ে খুব অল্প সময়ের জন্য।
ফোর্বসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পারস্য উপসাগরের হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল বন্ধ হয়ে গেলে তবেই হঠাৎ করে তেলের দাম ব্যাপকভাবে বেড়ে যেতে পারে। কারণ বিশ্বে সরবরাহ হওয়া মোট তেলের প্রায় এক-চতুর্থাংশ এই পথ দিয়েই পরিবাহিত হয়।
যদিও কাগজে-কলমে বিশ্বের সবচেয়ে বড় তেল মজুত ভেনেজুয়েলার, বাস্তবে বৈশ্বিক তেলবাজারে দেশটির প্রভাব এখন খুবই সীমিত। দীর্ঘদিন ধরে উৎপাদন কমে যাওয়ায় বর্তমানে দেশটির দৈনিক তেল উৎপাদন সামান্য এক মিলিয়নের বেশি। এর বড় অংশ অভ্যন্তরীণ চাহিদা মেটাতেই ব্যবহৃত হয়। ফলে বিশ্ববাজারে রপ্তানি মোট সরবরাহের ১ শতাংশেরও কম।
এই বাস্তবতায় মাদুরোকে তুলে নেওয়ার মতো বড় রাজনৈতিক ঘটনার পরও বিশ্ববাজারে তেলের দামে উল্লেখযোগ্য কোনো পরিবর্তন হয়নি।
বিশ্বব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ সালে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের সময় তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার ছাড়ালেও ২০২৩ সাল থেকে তা ধারাবাহিকভাবে কমছে। এর অন্যতম কারণ বিশ্বের সবচেয়ে বড় তেল আমদানিকারক চীনের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি কমে যাওয়া, যার ফলে বৈশ্বিক তেলের চাহিদাও হ্রাস পেয়েছে।

