ইয়েমেনের দক্ষিণাঞ্চলে রক্তক্ষয়ী সংঘাত ছড়িয়ে পড়ায় সংকট নিরসনে সৌদি আরবের দ্বারস্থ হয়েছে দেশটির নেতৃত্ব। এ পরিস্থিতিতে সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে একটি সংলাপ ফোরাম আয়োজনের প্রস্তাব জানানো হয়েছে, যা ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করেছে রিয়াদ। ইয়েমেনের সৌদি-সমর্থিত প্রেসিডেনসিয়াল লিডারশিপ কাউন্সিল (পিএলসি) আনুষ্ঠানিকভাবে এই ফোরাম আয়োজনের অনুরোধ জানায়।
শনিবার (৩ জানুয়ারি) আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়।
একই দিনে সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে দক্ষিণ ইয়েমেনের সব রাজনৈতিক ও সশস্ত্র গোষ্ঠীকে রিয়াদে প্রস্তাবিত সংলাপ ফোরামে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানায়। বিবৃতিতে বলা হয়, দক্ষিণাঞ্চলের চলমান সংকটের একটি ‘ন্যায্য ও সমন্বিত সমাধান’ খুঁজে বের করাই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।
এর আগে শনিবার পিএলসি চেয়ারম্যান রাশাদ আল আলিমি দক্ষিণ ইয়েমেনের বিভিন্ন রাজনৈতিক শক্তি ও নেতাদের আলোচনায় বসার আহ্বান জানান। রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা সাবা নিউজের বরাতে জানা যায়, তিনি দক্ষিণ ইয়েমেনের ইস্যুকে ‘ন্যায্য ও কেন্দ্রীয় সমস্যা’ হিসেবে উল্লেখ করেন এবং একতরফা বা বর্জনমূলক কোনো সমাধান প্রত্যাখ্যান করেন।
সাম্প্রতিক সময়ে দক্ষিণ ইয়েমেনের হাজরামাউত ও আল মাহরা প্রদেশে উত্তেজনা তীব্র আকার ধারণ করেছে। বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠী সাউদার্ন ট্রানজিশনাল কাউন্সিল (এসটিসি) সেখানে বড় ধরনের সামরিক অভিযান শুরু করলে সংঘর্ষ আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে। তেলসমৃদ্ধ হাজরামাউত সৌদি আরবের সীমান্তঘেঁষা হওয়ায় অঞ্চলটি রিয়াদের জন্য কৌশলগত ও নিরাপত্তাগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ।
যদিও এসটিসি হুথিবিরোধী জোটের অংশ, তবু দক্ষিণ ইয়েমেনে আলাদা রাষ্ট্র গঠনের পরিকল্পনার অভিযোগ রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে। এতে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেনি সরকার ও পিএলসির সঙ্গে তাদের দ্বন্দ্ব তীব্র হয়েছে। সৌদি আরব দাবি করেছে, তাদের জোটসঙ্গী সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) এসটিসিকে অস্ত্র সহায়তা দিচ্ছে। তবে ইউএই এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
শনিবার ইউএই দক্ষিণ ইয়েমেনের চলমান উত্তেজনা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে এবং সব পক্ষকে সংযম দেখানোর আহ্বান জানায়। একই সঙ্গে দেশটি ইয়েমেন থেকে তাদের সব সামরিক সদস্য প্রত্যাহারের ঘোষণা দেয়। ইউএই প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, সন্ত্রাসবিরোধী মিশন সম্পন্ন হওয়ার পরই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এদিকে এসটিসি দাবি করেছে, সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের বিমান হামলায় শুক্রবার অন্তত ২০ জন নিহত হয়েছেন। এমন পরিস্থিতির মধ্যেই এসটিসি ঘোষণা দিয়েছে, তারা আগামী দুই বছরের মধ্যে উত্তর ইয়েমেন থেকে স্বাধীনতা বিষয়ে গণভোট আয়োজন করতে চায়।
তবে সাবেক ইয়েমেনি কূটনীতিক আলি আহমেদ আল আমরানি বলেছেন, বিচ্ছিন্নতাবাদ ইয়েমেন সংকটের কোনো বাস্তবসম্মত সমাধান নয় এবং এটি জাতীয় ঐকমত্যের প্রতিফলন ঘটায় না।
ইউরোপিয়ান ইনস্টিটিউট অব পিসের বিশ্লেষক হিশাম আল ওমেইসি সতর্ক করে বলেন, এই সংঘাত নিরসন না হলে দক্ষিণ ইয়েমেনে যুদ্ধের একটি নতুন ও বিপজ্জনক অধ্যায় শুরু হতে পারে। তাঁর মতে, পরিস্থিতি দ্রুত ‘একটি প্রক্সি যুদ্ধের ভেতরে আরেকটি প্রক্সি যুদ্ধে’ রূপ নিচ্ছে, যার প্রভাব ইয়েমেনের সীমানা ছাড়িয়ে পুরো অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়তে পারে।

