বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম একের পর এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছাচ্ছে। বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা ও বিনিয়োগ ঝুঁকি বাড়তে থাকায় নিরাপদ সম্পদ হিসেবে স্বর্ণের প্রতি আগ্রহ ক্রমেই তীব্র হচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় প্রথমবারের মতো প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম ৪ হাজার ৮০০ ডলারের ঘর ছাড়িয়ে নতুন ইতিহাস গড়েছে।
বার্তাসংস্থা রয়টার্সের তথ্যমতে, বুধবার (২১ জানুয়ারি) আন্তর্জাতিক বাজারে স্পট মার্কেটে স্বর্ণের দাম একদিনে ১ দশমিক ৩০ শতাংশ বেড়ে দাঁড়ায় প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৮২৫ দশমিক ৬৮ ডলারে। দিনের লেনদেনের এক পর্যায়ে দাম আরও বেড়ে সর্বকালের সর্বোচ্চ ৪ হাজার ৮৩৫ দশমিক ৬৯ ডলারে পৌঁছে যায়, যা বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দামের ক্ষেত্রে একটি নজিরবিহীন ঘটনা।
বিশ্লেষকদের মতে, চলমান ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা, বৈশ্বিক অর্থনীতির অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ এবং ঝুঁকিপূর্ণ বিনিয়োগ পরিবেশে বিনিয়োগকারীরা নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে স্বর্ণের দিকে ঝুঁকছেন। ডলার ও শেয়ারবাজারের অস্থিরতার মধ্যেও স্বর্ণ তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল থাকায় এর চাহিদা দ্রুত বাড়ছে, আর তার সরাসরি প্রভাব পড়ছে দামের ওপর।
বিশ্ববাজারের এই ঊর্ধ্বগতির প্রভাব খুব দ্রুতই দেশের বাজারে এসে পৌঁছেছে। মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) রাতে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন—বাজুস এক বিজ্ঞপ্তিতে স্বর্ণের দাম ভরিতে ৫ হাজার ২৪৯ টাকা বাড়ানোর ঘোষণা দেয়, যা আজ থেকেই কার্যকর হয়েছে।
বাজুস জানায়, স্থানীয় বাজারে তেজাবি বা পিওর স্বর্ণের দাম বাড়ায় এবং সার্বিক বাজার পরিস্থিতি বিবেচনায় এনে নতুন করে স্বর্ণের মূল্য সমন্বয় করা হয়েছে। এর ফলে দেশের ইতিহাসে স্বর্ণের দাম আবারও সর্বোচ্চ স্তরে পৌঁছেছে।
নতুন মূল্য অনুযায়ী, দেশের বাজারে প্রতি ভরি (১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৪৪ হাজার ১২৮ টাকা, যা বাংলাদেশে স্বর্ণের দামের সর্বকালের রেকর্ড।
এছাড়া ২১ ক্যারেট স্বর্ণের প্রতি ভরি দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৩২ হাজার ৯৮৮ টাকা। ১৮ ক্যারেট স্বর্ণের দাম হয়েছে ১ লাখ ৯৯ হাজার ৭৪৬ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে প্রতি ভরি ১ লাখ ৬৩ হাজার ৮২১ টাকা।
বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দামের এই ঊর্ধ্বগতি কতদিন অব্যাহত থাকবে, তা নিয়ে এখন বিনিয়োগকারী ও সাধারণ ক্রেতাদের মধ্যে বাড়ছে কৌতূহল ও উদ্বেগ—দুটোই।

