গাজা উপত্যকার পুনর্গঠন এবং দীর্ঘস্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য নিয়ে গঠিত আন্তর্জাতিক উদ্যোগ ‘বোর্ড অব পিস’ বা শান্তি পর্ষদে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগ দিতে যাচ্ছে পাকিস্তান। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষিত এই উদ্যোগে ইতোমধ্যে সৌদি আরব, তুরস্ক, মিশর, জর্ডান, ইন্দোনেশিয়া ও কাতার অংশগ্রহণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সেই তালিকায় এবার যুক্ত হলো পাকিস্তান।
পাকিস্তান ও তুরস্ক—দুই দেশই আনুষ্ঠানিকভাবে এই শান্তি পর্ষদে যোগদানের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। জানা গেছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজেই পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ এবং তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোগানকে এই উদ্যোগে অংশ নেওয়ার আমন্ত্রণ জানান।
পাকিস্তানের পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, ‘বোর্ড অব পিস’-এ অংশগ্রহণ গাজা সংকট নিরসনে পাকিস্তানের দীর্ঘদিনের কূটনৈতিক প্রচেষ্টারই ধারাবাহিকতা। এই উদ্যোগ জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাব ২৮০৩-এর আলোকে গৃহীত গাজা শান্তি পরিকল্পনার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বলে উল্লেখ করেছে ইসলামাবাদ।
পররাষ্ট্র দপ্তরের বিবৃতিতে বলা হয়, পাকিস্তান বিশ্বাস করে, এই নতুন আন্তর্জাতিক কাঠামোর মাধ্যমে গাজায় একটি স্থায়ী যুদ্ধবিরতির পথে বাস্তব ও দৃশ্যমান অগ্রগতি সম্ভব হবে। দীর্ঘদিনের সংঘাত ও অচলাবস্থার পর গাজায় শান্তি ফেরাতে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ বলে মনে করছে দেশটি।
পাকিস্তান আশাবাদ ব্যক্ত করেছে যে, ‘বোর্ড অব পিস’-এর কার্যক্রমের ফলে গাজাবাসীর জন্য মানবিক সহায়তা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে। কয়েক মাস ধরে চলা ভয়াবহ ধ্বংসযজ্ঞে গাজার অবকাঠামো প্রায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। খাদ্য, চিকিৎসা, আশ্রয় এবং মৌলিক পরিষেবার তীব্র সংকট তৈরি হয়েছে।
এই প্রেক্ষাপটে পাকিস্তান মনে করছে, আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের মাধ্যমে গাজার জরুরি পুনর্গঠন কার্যক্রম শুরু করা এখন সময়ের দাবি। শান্তি পর্ষদের মাধ্যমে সেই উদ্যোগ আরও সংগঠিত ও কার্যকর হবে বলে আশা প্রকাশ করেছে দেশটি।
একই সঙ্গে পাকিস্তানের পররাষ্ট্র দপ্তর ফিলিস্তিন ইস্যুতে তাদের নীতিগত অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছে। বিবৃতিতে বলা হয়, ইসলামাবাদ প্রত্যাশা করে—এই ধরনের আন্তর্জাতিক উদ্যোগ আন্তর্জাতিক আইন, বৈধতা এবং সংশ্লিষ্ট জাতিসংঘ প্রস্তাবের ভিত্তিতে একটি বিশ্বাসযোগ্য ও সময়সীমাবদ্ধ রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার পথ খুলে দেবে।
পাকিস্তানের মতে, এই প্রক্রিয়ার মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত ফিলিস্তিনি জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার বাস্তবায়ন। দেশটি আবারও স্পষ্ট করে জানায়, তারা ১৯৬৭ সালের আগের সীমান্তের ভিত্তিতে একটি স্বাধীন, সার্বভৌম ও সংযুক্ত ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পক্ষে।
পাকিস্তানের অবস্থান অনুযায়ী, আল-কুদস আল-শরিফ (জেরুজালেম) হবে সেই স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের রাজধানী—এই নীতিতে কোনো আপস নেই।
গাজা সংকট ঘিরে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে যখন নতুন করে কূটনৈতিক তৎপরতা বাড়ছে, তখন ‘বোর্ড অব পিস’-এ পাকিস্তানের যোগদান এই উদ্যোগকে আরও বিস্তৃত ও অর্থবহ করে তুলতে পারে। যুদ্ধবিরতি, মানবিক সহায়তা এবং পুনর্গঠনের পাশাপাশি ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার প্রশ্নে এই শান্তি পর্ষদ কতটা কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে—সেদিকেই এখন তাকিয়ে বিশ্ব।

