মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সুইজারল্যান্ডের দাভোসে যাওয়ার পথে যান্ত্রিক গোলযোগের কারণে মাঝ–আকাশ থেকেই তাঁর উড়োজাহাজকে জরুরি অবতরণ করতে হয়েছে। পরে অন্য একটি উড়োজাহাজে করে তিনি দাভোসে পৌঁছান।
হোয়াইট হাউস জানায়, সুইজারল্যান্ডের উদ্দেশে রওনা হওয়ার কিছুক্ষণ পর ‘এয়ার ফোর্স ওয়ান’-এ সামান্য যান্ত্রিক ত্রুটি ধরা পড়ে। অতিরিক্ত সতর্কতার অংশ হিসেবে উড়োজাহাজটি যুক্তরাষ্ট্রের জয়েন্ট বেস অ্যান্ড্রুজ ঘাঁটিতে ফিরে আসে। রাত ১১টার কিছু পর সেখানে নিরাপদে অবতরণ করে বিমানটি।
প্রেসিডেন্টের সফরসঙ্গী সাংবাদিকদের ভাষ্য অনুযায়ী, উড্ডয়নের অল্প সময়ের মধ্যেই কেবিনের আলো একবার নিভে যায়। এতে যাত্রীদের মধ্যে কিছুটা উদ্বেগ তৈরি হয়। অবতরণের প্রায় আড়াই ঘণ্টা পর ট্রাম্প ও তাঁর সঙ্গীরা অন্য একটি উড়োজাহাজে চড়ে আবার দাভোসের উদ্দেশে রওনা হন।
নীল ও সাদা রঙের বিশেষ নকশার ‘এয়ার ফোর্স ওয়ান’ বিশ্বজুড়ে মার্কিন প্রেসিডেন্টের ক্ষমতা ও মর্যাদার প্রতীক হিসেবে পরিচিত। তবে বর্তমান বিমানবহর নিয়ে ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরেই অসন্তুষ্ট। বর্তমানে ব্যবহৃত দুটি বোয়িং ৭৪৭-২০০বি উড়োজাহাজ কেনা হয়েছিল ১৯৯০ সালে। সে সময় প্রেসিডেন্ট ছিলেন জর্জ এইচ ডব্লিউ বুশ।
নতুন দুটি বিমান সরবরাহে বোয়িং দেরি করায় গত বছর বিকল্প ব্যবস্থার কথা বলেন ট্রাম্প। সেই প্রেক্ষাপটে বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় আসে।
কাতার থেকে আসা বিতর্কিত বিমান:
গত বছরের মে মাসে পেন্টাগনের প্রধান পিট হেগসেথ কাতার থেকে উপহার হিসেবে পাঠানো একটি বোয়িং ৭৪৭ উড়োজাহাজ ট্রাম্পের ব্যবহারের জন্য গ্রহণ করেন। কোটি কোটি ডলার মূল্যের এই বিমান নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে সাংবিধানিক ও নৈতিক প্রশ্ন ওঠে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিদেশি শক্তির দেওয়া কোনো উড়োজাহাজ মার্কিন প্রেসিডেন্টের মতো অতি সংবেদনশীল দায়িত্বে ব্যবহারের ক্ষেত্রে নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। এ কারণেই বিষয়টি নিয়ে ওয়াশিংটনে উদ্বেগ ও বিতর্ক এখনো চলমান।

