গ্রিনল্যান্ড দখলের সিদ্ধান্তে অনড় অবস্থানে রয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এ সিদ্ধান্তে ইউরোপীয় মিত্রদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। তবে সেই ক্ষোভকে ‘আবেগতাড়িত’ আখ্যা দিয়ে সংযম দেখানোর আহ্বান জানিয়েছে ওয়াশিংটন। একই সঙ্গে গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে আলোচনার জন্য সুইজারল্যান্ডের দাভোসে ইউরোপীয় নেতাদের সঙ্গে বসতে চান ট্রাম্প।
গতকাল বুধবার সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট। এদিনই ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের বার্ষিক বৈঠকে যোগ দিতে দাভোসে পৌঁছান ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক আলোচনার চেয়েও এবারের দাভোসে বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে গ্রিনল্যান্ড প্রসঙ্গ। কারণ, ইউরোপের কড়া সমালোচনার মধ্যেও ট্রাম্প স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, গ্রিনল্যান্ড দখলের সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসার কোনো সুযোগ নেই।
স্কট বেসেন্ট সাংবাদিকদের বলেন, সবাইকে আমি বলব, একটু গভীর শ্বাস নিন। আবেগতাড়িত ক্ষোভ ও সম্পর্কে যে তিক্ততা তৈরি হয়েছে, তা ধরে রাখার দরকার নেই। ইউরোপীয় নেতারা কেন একসঙ্গে বসবেন না। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দাভোসে আসছেন। তাঁর যুক্তি শোনা উচিত। বেসেন্ট এসব কথা বলেন তখন ট্রাম্প দাভোসের পথে ছিলেন।
গ্রিনল্যান্ড ইউরোপের দেশ ডেনমার্কের অংশ। ট্রাম্পের দাবি, উত্তর মেরুর আর্কটিক অঞ্চলে বরফ দ্রুত গলছে। একই সঙ্গে পরাশক্তিগুলোর মধ্যে প্রতিযোগিতা বাড়ছে। এই বাস্তবতায় খনিজসম্পদে সমৃদ্ধ গ্রিনল্যান্ড যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা সামরিক জোট ন্যাটোর নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে রাশিয়া ও চীনের প্রভাব মোকাবিলায় এই নিরাপত্তা প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি। যদিও ডেনমার্ক নিজেই ন্যাটোর সদস্য দেশ।
এ পরিস্থিতিতে ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রধান উরসুলা ভন ডার লেন গত মঙ্গলবার বলেন, ট্রাম্পের হুমকির মুখেও ২৭ দেশের জোট ইউরোপীয় ইউনিয়ন অবিচল থাকবে। ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাখোঁও হুমকি ও ধমকির বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ থাকার অঙ্গীকার করেছেন। তবে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট এসব বক্তব্যকে উসকানিমূলক বলে মন্তব্য করেন।
এরই মধ্যে দাভোসে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের এক প্যানেল আলোচনায় ন্যাটোর মহাসচিব মার্ক রুত্তে বলেন, গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের মধ্যে চলমান উত্তেজনা নিয়ে তিনি প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করবেন না। বিষয়টি নিয়ে তিনি পর্দার আড়ালে কাজ করছেন। ন্যাটোপ্রধানের ভাষায়, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও অন্যান্য নেতারা ঠিকই বলেছেন। এখানে আমাদের অনেক কিছু করার আছে। রাশিয়া ও চীনের প্রভাব থেকে আর্কটিক অঞ্চলকে রক্ষা করতে হবে।

