গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে ন্যাটো মিত্রদের ওপর শুল্ক আরোপের হুমকি প্রত্যাহারের কয়েক মিনিট পরই মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনবিসিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে নতুন এক ‘চুক্তির ধারণা’র কথা জানান যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, এখন একটি সম্ভাব্য চুক্তি বিবেচনায় রয়েছে। তবে চুক্তির বিস্তারিত জানতে চাইলে তিনি বলেন, বিষয়টি কিছুটা জটিল। পরে সব ব্যাখ্যা করা হবে। তাঁর ভাষায়, এটি ঠিক সেই ধরনের চুক্তি, যা তিনি চেয়েছিলেন।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট জানান, ন্যাটো মহাসচিব মার্ক রুতে ইতিমধ্যে প্রস্তাবটি নিয়ে ডেনমার্ক ও জোটের অন্যান্য সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেছেন। চুক্তি নিয়ে চমকপ্রদ ঘোষণার আগেই রুতের সঙ্গে তাঁর আলোচনা হয় বলেও উল্লেখ করেন ট্রাম্প।
ট্রাম্প জোর দিয়ে বলেন, এই চুক্তি হবে চিরস্থায়ী। তবে গ্রিনল্যান্ড বিষয়ে কোনো চুক্তিতে বিরল খনিজ সম্পদ থাকবে কি না, সে বিষয়ে তিনি স্পষ্ট করে কিছু বলেননি। শুধু জানান, ন্যাটো ও ডেনমার্কের সঙ্গে সহযোগিতা চুক্তির গুরুত্বপূর্ণ অংশ হবে।
সিএনবিসির সাক্ষাৎকার শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প আবারও বলেন, আলোচনা এখনো চলমান। তবে তা অনেকটাই এগিয়েছে। তাঁর দাবি, এই চুক্তির মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের প্রয়োজনীয় সবকিছুই নিশ্চিত করা হচ্ছে। বিশেষ করে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার ক্ষেত্রে।
তিনি আবারও বলেন, এটি একটি চূড়ান্ত ও দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি হবে। মালিকানার বিষয়টি আলোচনায় আছে কি না, সে প্রশ্নে তিনি কোনো পরিষ্কার উত্তর দেননি। ট্রাম্পের মতে, এই চুক্তি সবাইকে ভালো অবস্থানে রাখবে। নিরাপত্তা, খনিজ সম্পদ ও অন্যান্য স্বার্থ—সব দিক থেকেই।
এদিকে ন্যাটোর এক মুখপাত্র বিবিসির মার্কিন অংশীদার সিবিএস নিউজকে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যে চুক্তির কাঠামো নিয়ে আলোচনা হচ্ছে, তার মূল লক্ষ্য আর্কটিক অঞ্চলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। মিত্রদের সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমেই এ লক্ষ্য অর্জন করা হবে।
ওই মুখপাত্র আরও বলেন, ডেনমার্ক, গ্রিনল্যান্ড ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে আলোচনা এমনভাবে এগোবে, যাতে রাশিয়া ও চীন কখনোই গ্রিনল্যান্ডে অর্থনৈতিক বা সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করতে না পারে।
শুল্ক–হুমকি প্রত্যাহারে ইউরোপের স্বস্তি:
গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডকে সমর্থনকারী ইউরোপের মিত্রদেশগুলোর ওপর শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়েছিলেন ট্রাম্প। সেই সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের খবরে ইউরোপীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা স্বস্তি প্রকাশ করেছেন।
ডেনমার্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী লার্স লোয়েক্কি রাসমুসেন ট্রাম্পের ঘোষণাকে স্বাগত জানান। তিনি বলেন, দিনের শুরু যেমন ছিল, শেষটা তার চেয়ে ভালো হয়েছে। ডেনমার্কের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম ডিআরকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে রাসমুসেন বলেন, গ্রিনল্যান্ডের জনগণের প্রতি সম্মান দেখিয়ে এই সংকটের সমাধান হওয়াই তাঁর দেশের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি স্পষ্ট করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র কখনোই গ্রিনল্যান্ডের মালিক হবে না। এটি এমন একটি সীমারেখা, যা অতিক্রম করা যাবে না। রাসমুসেন আরও জানান, ট্রাম্প প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন যে বলপ্রয়োগ করা হবে না। এটিকে তিনি ইতিবাচক দিক হিসেবে দেখছেন। তবে একই সঙ্গে বলেন, ট্রাম্পের কিছু উচ্চাকাঙ্ক্ষা আছে, যা ডেনমার্কের পক্ষে গ্রহণযোগ্য নয়।
সুইডেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মারিয়া মালমার স্টেনারগার্ড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লেখেন, সীমানা পরিবর্তনের দাবিগুলো প্রাপ্য সমালোচনা পেয়েছে। এ কারণেই ইউরোপ বারবার বলেছে, তারা ব্ল্যাকমেলের কাছে নতি স্বীকার করবে না। তাঁর মতে, মিত্রদের সম্মিলিত প্রচেষ্টাই এখানে ফল দিয়েছে।
গ্রিনল্যান্ড দখলের বিরোধিতা করায় যুক্তরাজ্য, জার্মানি, ফ্রান্সসহ ইউরোপের আটটি দেশের ওপর ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছিলেন ট্রাম্প। আগামী ১ ফেব্রুয়ারি থেকে এই শুল্ক কার্যকর হওয়ার কথা ছিল। গত শনিবার তিনি এ ঘোষণা দেন। তবে গতকাল বুধবার সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসার কথা জানান মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

