ভারতের ধনকুবের ও শীর্ষস্থানীয় শিল্পগোষ্ঠী আদানি গ্রুপের চেয়ারপারসন গৌতম আদানি ও তাঁর ভাগনে সাগর আদানির কাছে মার্কিন সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (এসইসি) পাঠানো সমন তাঁদের পৌঁছে দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিল ভারতের আইন ও বিচার মন্ত্রণালয়। গত বছর দুই দফায় এই নোটিশ ফেরত পাঠিয়েছে। নিউইয়র্কের একটি আদালতের নথি থেকে এ তথ্য জানা গেছে। ছবি: দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস
যুক্তরাষ্ট্রে ঘুষ প্রদান ও প্রতারণার অভিযোগের কারণে এসইসি আদানি ও তার ভাগনের বিরুদ্ধে সমন জারি করেছে। কিন্তু গত বছর মে ও ডিসেম্বরে দুই দফায় ভারত সরকারের কাছে সমন পাঠানোর অনুরোধ করা হলেও মোদি সরকার তা ফেরত পাঠিয়েছে।
নিরুপায় হয়ে এসইসি এখন নিউইয়র্ক ফেডারেল আদালতের কাছে বিশেষ অনুমতি চাইছে, যাতে তারা আন্তর্জাতিক প্রথা এড়িয়ে সরাসরি ইমেলের মাধ্যমে আদানিদের কাছে সমন পাঠাতে পারে।
ভারতের আপত্তির কারণ-
এসইসি গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে হেগ কনভেনশন অনুসারে ভারতের আইন মন্ত্রণালয়ের কাছে আবেদন করে সমন পৌঁছানোর জন্য। কিন্তু মে মাসে ভারত সরকার সমন ফেরত পাঠায়। মোদি সরকারের যুক্তি ছিল, যুক্তরাষ্ট্র থেকে পাঠানো কাগজে কোনো সরকারি সিলমোহর বা স্বাক্ষর নেই, তাই মূল নথি আসল কি না তা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।
ডিসেম্বরে এসইসি আবারো আবেদন করে, কিন্তু ভারত সরকার জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব আইনের মান অনুসরণ করে সমন পাঠানো হয়নি।
এসইসি এই আপত্তি অবৈধ বলে দাবি করেছে। সংস্থার মতে, হেগ কনভেনশনে সিলমোহর বা স্বাক্ষরের বাধ্যবাধকতা নেই এবং ভারতের এই আপত্তি শুধুই সময়ক্ষেপণ।
আদানি গ্রুপের প্রতিক্রিয়া-
আদানি গ্রুপ জানিয়েছে, মার্কিন এসইসির অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং তারা আইনিভাবে মোকাবিলা করবে। আদানি গ্রিন এনার্জি জানিয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে কোনো সরাসরি ঘুষ বা দুর্নীতির অভিযোগ নেই; এটি কেবল একটি দেওয়ানি মামলা।
২০২৪ সালের নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের কর্তৃপক্ষ অভিযোগ তুলেছিল, আদানি গ্রুপের নির্বাহীরা আদানি গ্রিন এনার্জির উৎপাদিত বিদ্যুৎ কেনার জন্য ভারতীয় কর্মকর্তাদের ঘুষ প্রদানে জড়িত ছিলেন। এর ভিত্তিতে এসইসি গৌতম আদানি ও সাগর আদানির বিরুদ্ধে দেওয়ানি মামলা দায়ের করে।

