যুক্তরাষ্ট্রে ভয়াবহ শীতকালীন ঝড়ে অন্তত সাতজনের মৃত্যু এবং কয়েক লাখ বাড়ি বিদ্যুৎহীন হয়ে গেছে। দেশজুড়ে টেক্সাস থেকে নিউ ইংল্যান্ড পর্যন্ত প্রাণঘাতী আবহাওয়া পরিস্থিতি চলছে, যার কারণে স্কুল বন্ধ রাখা হয়েছে এবং হাজার হাজার ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। সূত্র: বিবিসি
লুইজিয়ানায় দুজন, টেক্সাস, টেনেসি ও কানসাসে আরও পাঁচজনের মৃত্যু ঘটেছে। লুইজিয়ানার স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, সেখানে দুইজন হাইপোথার্মিয়ায় মারা গেছেন। টেক্সাসের অস্টিনে এক জন, কানসাসে এক নারী এবং টেনেসিতে তিনজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। নিউইয়র্কের গভর্নর ক্যাথি হকুল সতর্ক করে বলেছেন, চলমান ঝড় কয়েক বছরের মধ্যে সবচেয়ে দীর্ঘ ও সবচেয়ে বিপজ্জনক শীতকালীন পরিস্থিতি।
পাওয়ারআউটেজের তথ্য অনুযায়ী, রোববার বিকেলের দিকে আট লাখের বেশি বাড়ি বিদ্যুৎহীন ছিল। ফ্লাইটঅ্যাওয়ারের তথ্য অনুযায়ী ১১ হাজারের বেশি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। আবহাওয়া বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, বরফ পড়া সবচেয়ে বড় বিপদ, যা গাছ ভেঙে দিতে পারে, বিদ্যুতের লাইন ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে এবং রাস্তায় চলাচল অনিরাপদ করে।
কানাডাতেও ভারী তুষারপাত হয়েছে এবং শত শত ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। অন্টারিও প্রদেশে ৫–১১ ইঞ্চি পর্যন্ত তুষারপাত হতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় অর্ধেক অঙ্গরাজ্যে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছে। স্কুলগুলো বন্ধ এবং সেনেট ভোট স্থগিত হয়েছে। ওয়াশিংটনে মেয়র মুরিয়েল বাউজার বলেছেন, “এই সপ্তাহান্তে ডিসিতে আমরা দশকের সবচেয়ে বড় তুষারঝড়ের মুখোমুখি।”
ঠান্ডার তীব্রতা: উত্তরের রাজ্যগুলোর মানুষ শূন্য ডিগ্রির নিচে তাপমাত্রার সঙ্গে অভ্যস্ত হলেও টেক্সাস, লুইজিয়ানা ও টেনেসিতে তাপমাত্রা মৌসুমের গড়ের তুলনায় ১৫–২০ ডিগ্রি কম। এই অবস্থায় কয়েক দিনের জন্য বিপর্যয় চলতে পারে এবং প্রায় ১৮ কোটি মানুষ এতে প্রভাবিত হতে পারেন।

