মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা দিয়েছেন, দক্ষিণ কোরিয়া থেকে আমদানি হওয়া গাড়ি, কাঠ, ওষুধসহ বিভিন্ন পণ্যের ওপর বর্তমান ১৫ শতাংশ শুল্ক বাড়িয়ে ২৫ শতাংশ করা হবে। সোমবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি এ তথ্য জানান। খবর রয়টার্স।
ট্রাম্প অভিযোগ করেছেন, গত বছর স্বাক্ষরিত দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তি সিউল ‘ঠিকমতো মেনে চলছে না’। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র দ্রুত শুল্ক কমানোর পদক্ষেপ নিয়েছে, কিন্তু দক্ষিণ কোরিয়ার আইনপ্রণেতারা চুক্তিটি অনুমোদনে ধীরগতি দেখাচ্ছেন।
ট্রাম্পের এই ঘোষণায় দক্ষিণ কোরিয়া বিস্ময় প্রকাশ করেছে। দেশটির সরকার জানিয়েছে, তারা ওয়াশিংটনের কাছ থেকে এ বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক নোটিশ পাননি। জরুরি আলোচনার জন্য দক্ষিণ কোরিয়ার শিল্পমন্ত্রী কিম জুং-কওয়ান কানাডায় থাকা সত্ত্বেও দ্রুত ওয়াশিংটন সফরে যাবেন। সেখানে তিনি মার্কিন বাণিজ্য সচিব হাওয়ার্ড লুটনিকের সঙ্গে বৈঠক করবেন।
শুল্ক বৃদ্ধির প্রভাব ইতিমধ্যেই দক্ষিণ কোরিয়ার অর্থনীতিতে পড়তে শুরু করেছে। ঘোষণার পর দেশটির শেয়ারবাজারে সাময়িকভাবে পতন দেখা গেছে। বিশেষ করে রফতানিকারক কোম্পানির শেয়ারের মূল্য কিছুটা কমে যায়। তবে পরে বাজার স্থিতিশীল হয় এবং রফতানিকারক কোম্পানির শেয়ার পুনরায় বৃদ্ধি পায়।
বিশ্লেষকরা বলছেন, এই শুল্ক বৃদ্ধি কোরিয়ার বাণিজ্য ক্ষেত্রে চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে। গাড়ি, কাঠ ও ওষুধের মতো গুরুত্বপূর্ণ পণ্যে শুল্ক বৃদ্ধি হলে আমদানি ব্যয় বাড়বে এবং রফতানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো অতিরিক্ত চাপের মুখে পড়তে পারে।
ট্রাম্পের পদক্ষেপটি কোরিয়া–মার্কিন দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যে নতুন উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে। দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য চুক্তি সুষ্ঠুভাবে বাস্তবায়ন না হওয়ায় এই ধরনের পদক্ষেপ আশা করা যেত। তবে দুই পক্ষই জানাচ্ছে, দ্রুত আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করার চেষ্টা হবে।

