জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) ভূমধ্যসাগরের মধ্যভাগে সাম্প্রতিক একাধিক প্রাণঘাতী নৌকাডুবির ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, গত ১০ দিনে একাধিক নৌকা ডুবে গেছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, নৌকাডুবির এসব ঘটনায় কয়েক শত অভিবাসনপ্রত্যাশী নিখোঁজ বা মারা গেছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে উদ্ধারকাজও সঠিকভাবে এগোতে পারেনি।
আইওএম তাদের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত বিবৃতিতে জানিয়েছে, এসব হৃদয়বিদারক ঘটনা আবারো স্পষ্ট করেছে, অবৈধ অভিবাসী পাচার এখনো অব্যাহত রয়েছে। দালাল চক্রগুলো ভাঙাচোরা নৌকায় মানুষকে সাগরপাড়ি দিতে পাঠাচ্ছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে আরো কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে, যাতে সাগরে প্রাণহানি ঠেকানো যায়।
ইতালির ল্যাম্পেদুসায় একটি নৌকায় অভিযান চালিয়ে তিনজনের মৃত্যু নিশ্চিত হয়েছে। নৌকাটি তিউনিসিয়ার স্যাফ্যাক্স থেকে রওনা হয়েছিল। ভুক্তভোগীদের মধ্যে এক বছর বয়সী যমজ বোনও ছিল। তারা ইউরোপের ভূখণ্ডে পৌঁছানোর আগে হাইপোথারমিয়ায় মারা গেছে। একই নৌকায় থাকা একজন পুরুষ অভিবাসীও হাইপোথারমিয়ায় মারা গেছেন।
উদ্ধার হওয়া কয়েকজন অভিবাসী জানিয়েছে, একই সময়ে একই স্থান থেকে আরো একটি নৌকা রওনা হয়েছিল। তবে তা গন্তব্যে পৌঁছায়নি এবং আশঙ্কা করা হচ্ছে নৌকাটি ডুবে গেছে। একটি বাণিজ্যিক নৌযান থেকে উদ্ধার হওয়া একজন আরোহী জানিয়েছে, নিখোঁজ বা মৃতের সংখ্যা কমপক্ষে ৫০ জন হতে পারে।
সাম্প্রতিক বছরগুলোয় নৌকায় চেপে বিপজ্জনকভাবে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইউরোপে প্রবেশের চেষ্টা ব্যাপকভাবে বেড়ে গেছে। বেশির ভাগ নৌকা আফ্রিকার লিবিয়া ও তিউনিসিয়ার উপকূল থেকে ছেড়ে আসে। নৌকায় থাকা মানুষদের মধ্যে বাংলাদেশ, সিরিয়া, আফগানিস্তান ও পাকিস্তান ছাড়াও আফ্রিকার বিভিন্ন দেশের নাগরিক রয়েছে।

