কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক প্রযুক্তিতে ব্যাপক বিনিয়োগের ইতিবাচক প্রভাব এবার স্পষ্টভাবে দেখা গেল বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান অ্যামাজনের বাজারমূল্যে। শক্তিশালী আর্থিক ফলাফল প্রকাশের পর টানা দ্বিতীয় দিনের মতো শেয়ারের দাম বাড়তে থাকায় ইতিহাসে প্রথমবারের মতো প্রতিষ্ঠানটির বাজারমূল্য ৩ ট্রিলিয়ন ডলার অতিক্রম করেছে। এর মাধ্যমে বৈশ্বিক প্রযুক্তি খাতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে ঘিরে চলমান বিনিয়োগের নতুন মাত্রা আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
সোমবার লেনদেনের শুরুতে অ্যামাজনের শেয়ারের দাম ৫.২ শতাংশ বেড়ে ২৮৫.৭৫ ডলারে পৌঁছায়। এর ফলে প্রতিষ্ঠানটির মোট বাজারমূল্য প্রায় ৩.১ ট্রিলিয়ন ডলারে উন্নীত হয়। কয়েক দিন আগে প্রকাশিত ত্রৈমাসিক আর্থিক প্রতিবেদনে অ্যামাজন ৬২ বিলিয়ন ডলারের বেশি মুনাফার তথ্য জানায়, যা বিনিয়োগকারীদের আস্থা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়ে দেয়।
প্রতিষ্ঠানটির এই সাফল্যের পেছনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসংশ্লিষ্ট দুটি খাত। একটি হলো মেঘভিত্তিক সেবা এবং অন্যটি উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন চিপ উৎপাদন ও সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম। এই দুই খাতে দ্রুত সম্প্রসারণের কারণে অ্যামাজনের আয় ও মুনাফা প্রত্যাশার চেয়েও বেশি বেড়েছে।
বিশেষ করে অ্যামাজনের মেঘভিত্তিক সেবা বিভাগ ৩৭ শতাংশ রাজস্ব প্রবৃদ্ধি অর্জন করে ৪২.২ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। এই অগ্রগতিকে সামনে রেখে প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা অ্যান্ডি জ্যাসি আশাবাদ প্রকাশ করে বলেছেন, সময়ের সঙ্গে এই বিভাগ একসময় বছরে ১ ট্রিলিয়ন ডলারের রাজস্ব অর্জনের সক্ষমতা তৈরি করতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দ্রুত বিস্তারের কারণে এখন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে অবকাঠামো নির্মাণে প্রতিযোগিতা তৈরি হয়েছে। উন্নত তথ্যকেন্দ্র, উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন চিপ এবং বিশাল কম্পিউটিং সক্ষমতা গড়ে তুলতে বড় অঙ্কের বিনিয়োগ করা হচ্ছে। এই বিনিয়োগকে ভবিষ্যতের প্রবৃদ্ধির ভিত্তি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
চলতি বছরে অ্যামাজন, মাইক্রোসফট, অ্যালফাবেট এবং মেটা যৌথভাবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক তথ্যকেন্দ্র, চিপ এবং কম্পিউটিং অবকাঠামো নির্মাণে প্রায় ৭০০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের পথে রয়েছে। এই বিপুল বিনিয়োগ প্রযুক্তি শিল্পের ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনার একটি গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক আর্থিক ফলাফল প্রমাণ করছে যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় করা বিপুল বিনিয়োগ ধীরে ধীরে আয় ও মুনাফায় প্রতিফলিত হতে শুরু করেছে। রাজস্ব বৃদ্ধি, মুনাফার পরিমাণ বাড়া এবং ভবিষ্যৎ কাজের পরিধি সম্প্রসারণ—সব মিলিয়ে বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো এখন আগের তুলনায় আরও শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে।
অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা, যদি এই প্রবৃদ্ধির ধারা অব্যাহত থাকে, তাহলে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকেন্দ্রিক প্রযুক্তি আগামী কয়েক বছরে বৈশ্বিক প্রযুক্তি শিল্পের সবচেয়ে বড় চালিকাশক্তি হয়ে উঠবে। আর সেই পরিবর্তনের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে অ্যামাজন অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নাম হিসেবে নিজের অবস্থান আরও শক্ত করেছে।

