সাম্প্রতিক উত্থানের পর বৃহস্পতিবার আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম কিছুটা কমেছে। আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ৯৫ ডলারের কাছাকাছি নেমে এসেছে। একই সময়ে ওয়াল স্ট্রিটের আগের দিনের উত্থানের ধারাবাহিকতায় এশিয়ার প্রধান শেয়ারবাজারগুলোও ঊর্ধ্বমুখী ছিল। যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ারবাজারের ফিউচার সূচকও সামান্য বেড়েছে।
সপ্তাহের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে সংঘাত শুরু হলে তেলের দাম দ্রুত বেড়ে যায়। তবে বুধবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের বোমা হামলার অভিযান ‘আর বেশি দিন’ চলবে বলে তিনি মনে করেন না। এর পরই তেলের বাজারে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে।
বৃহস্পতিবার ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ০ দশমিক ৪ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ৯৫ দশমিক ২৬ ডলারে দাঁড়ায়। যুক্তরাষ্ট্রের বেঞ্চমার্ক অপরিশোধিত তেলের দাম কমেছে ০ দশমিক ১ শতাংশ, ব্যারেলপ্রতি ৯০ দশমিক ৮৪ ডলারে।
জাপানের নিক্কেই ২২৫ সূচক ০ দশমিক ২ শতাংশ বেড়ে ৬৪ হাজার ৪৫৫ দশমিক ৮৩ পয়েন্টে উঠেছে। দেশটির বড় কোম্পানিগুলোর মধ্যে ওপেনএআইয়ের বিনিয়োগকারী সফটব্যাংক গ্রুপের শেয়ার ২ দশমিক ৯ শতাংশ বেড়েছে। মেমোরি চিপ নির্মাতা কিওক্সিয়া হোল্ডিংসের শেয়ার বেড়েছে ০ দশমিক ৬ শতাংশ এবং চিপ তৈরির সরঞ্জাম প্রস্তুতকারক টোকিও ইলেকট্রনের শেয়ার বেড়েছে ০ দশমিক ৮ শতাংশ।
দক্ষিণ কোরিয়ার কোস্পি সূচক ১ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়ে ৬ হাজার ৬৫৬ দশমিক ৮১ পয়েন্টে পৌঁছেছে। স্যামসাং ইলেকট্রনিকসের শেয়ার বেড়েছে ১ দশমিক ৩ শতাংশ। মেমোরি চিপ নির্মাতা এসকে হাইনিক্সের শেয়ারও ১ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়েছে।
হংকংয়ের হ্যাং সেং সূচক ০ দশমিক ১ শতাংশ বেড়ে ২৫ হাজার ৩৪৪ দশমিক ৮০ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। চীনের সাংহাই কম্পোজিট সূচক বেড়েছে ০ দশমিক ৪ শতাংশ, অবস্থান করছে ৩ হাজার ৯৫৮ দশমিক ৭৯ পয়েন্টে।
অস্ট্রেলিয়ার এসঅ্যান্ডপি/এএসএক্স ২০০ সূচক ০ দশমিক ৫ শতাংশ বেড়ে ৯ হাজার ২৫ দশমিক ১০ পয়েন্টে উঠেছে। তাইওয়ানের তাইএক্স সূচক বেড়েছে ০ দশমিক ৬ শতাংশ। ভারতের সেনসেক্সও ০ দশমিক ৩ শতাংশ ঊর্ধ্বমুখী ছিল।
এশিয়ার বাজারের এই ঊর্ধ্বগতি এসেছে আগের দিন ওয়াল স্ট্রিটের প্রধান সূচকগুলোর শক্তিশালী অবস্থানের পর। বুধবার এসঅ্যান্ডপি ৫০০ সূচক বেড়েছে ০ দশমিক ৫ শতাংশ। ডাও জোন্স ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যাভারেজ বেড়েছে ০ দশমিক ৬ শতাংশ এবং প্রযুক্তিনির্ভর নাসডাক কম্পোজিট সূচকও ০ দশমিক ৫ শতাংশ বেড়েছে।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির চাহিদা নিয়ে ডেল ও পালো অল্টো নেটওয়ার্কসের কাছ থেকে পাওয়া ইতিবাচক কিছু সংকেত বিনিয়োগকারীদের আশ্বস্ত করেছে। চলতি বছর এসঅ্যান্ডপি ৫০০-এর উত্থানের অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে এআই খাতকে বিবেচনা করা হচ্ছে।
শক্তিশালী ত্রৈমাসিক মুনাফার পর ডেল টেকনোলজিসের শেয়ার এক লাফে ১৫ দশমিক ৮ শতাংশ বেড়েছে। এআই খাতের বড় কোম্পানিগুলোর মধ্যে এনভিডিয়ার শেয়ার ৩ দশমিক ২ শতাংশ, মেটা প্ল্যাটফর্মসের শেয়ার ২ দশমিক ৫ শতাংশ এবং মাইক্রন টেকনোলজির শেয়ার ২ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়েছে।
এআই খাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য প্রযুক্তি কোম্পানির শেয়ারও ঊর্ধ্বমুখী ছিল। বড় বাজারমূল্যের কারণে বাজারের সামগ্রিক গতিপথে এনভিডিয়ার প্রভাব বেশি হওয়ায় প্রতিষ্ঠানটির শেয়ারের ৩ দশমিক ২ শতাংশ উত্থান বিশেষভাবে নজর কেড়েছে। একই সময়ে কম্পিউটার মেমোরি নির্মাতা মাইক্রনের শেয়ার বেড়েছে ২ দশমিক ৪ শতাংশ।
বন্ডের বাজারে যুক্তরাষ্ট্রের ১০ বছর মেয়াদি ট্রেজারি বন্ডের সুদহার কমে ৪ দশমিক ৭৭ শতাংশে নেমেছে। বুধবার দিনের শুরুতে এটি ৪ দশমিক ৮১ শতাংশের ওপরে ছিল।
বিশ্বজুড়ে বন্ড বিক্রির চাপ বাড়ার পর মূল্যস্ফীতি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এর সঙ্গে ইরান যুদ্ধের কারণে জ্বালানির দামে সম্ভাব্য ধাক্কা এবং যুক্তরাষ্ট্র সরকারের ক্রমবর্ধমান ঋণ নিয়েও বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগ রয়েছে।
এদিকে শুক্রবার আগস্ট মাসের কর্মসংস্থান প্রতিবেদন প্রকাশ করবে যুক্তরাষ্ট্র। অর্থনীতির গতি এবং ভবিষ্যৎ সুদের হার সম্পর্কে ধারণা পেতে বিনিয়োগকারীদের নজর এখন ওই প্রতিবেদনের দিকে।
বৃহস্পতিবার এশিয়ার মুদ্রাবাজারেও উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন দেখা গেছে। মার্কিন ডলারের বিপরীতে জাপানি ইয়েন শক্তিশালী হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকালে প্রতি ডলারের বিপরীতে ১৫৭ দশমিক ৭৮ ইয়েন লেনদেন হয়েছে, যা বুধবার দিনের শেষের ১৫৮ দশমিক ৭১ ইয়েনের তুলনায় কম।
সপ্তাহের শুরুতে ডলারের দর ১৬০ ইয়েনের ওপরে উঠে গিয়েছিল। এতে ইয়েনের আরও দরপতন ঠেকাতে জাপানি নিয়ন্ত্রক সংস্থার বাজারে হস্তক্ষেপের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়।
অন্যদিকে ইউরোর দাম বেড়ে ১ দশমিক ১৫৯৮ ডলারে উঠেছে। বুধবার দিনের শেষে এটি ছিল ১ দশমিক ১৫৮৮ ডলার।

