রেকর্ড উচ্চতায় ওঠার পর আন্তর্জাতিক বাজারে তামার দাম কিছুটা কমেছে। তবে বিশ্ববাজারে সরবরাহ সংকটের আশঙ্কা থাকায় ধাতুটির দাম এখনো উচ্চ পর্যায়েই রয়েছে।
সম্ভাব্য আমদানি শুল্ক এড়াতে বিপুল পরিমাণ তামা যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করায় দেশটির বাইরে সরবরাহ কমে এসেছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে তামার মজুদ দ্রুত বাড়ছে। এতে আন্তর্জাতিক বাজারে তামার সরবরাহ নিয়ে নতুন করে চাপ তৈরি হয়েছে।
লন্ডন মেটাল এক্সচেঞ্জে তিন মাস মেয়াদি তামার দাম বুধবার দশমিক ৫৫ শতাংশ কমে টনপ্রতি ১৪ হাজার ৬২৮ ডলারে নেমেছে। এর আগে মঙ্গলবারের লেনদেনে দাম সর্বকালের সর্বোচ্চ ১৪ হাজার ৭৭৯ ডলারে উঠেছিল।
অন্যদিকে সাংহাই ফিউচারস এক্সচেঞ্জে সবচেয়ে বেশি লেনদেন হওয়া তামার চুক্তির দাম দশমিক ৪৪ শতাংশ বেড়ে টনপ্রতি ১ লাখ ১০ হাজার ৭৪০ ইউয়ানে উঠেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের কমেক্স বাজারেও তামার মজুদ দ্রুত বাড়ছে। মঙ্গলবার পর্যন্ত সেখানে মজুদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৭ লাখ ৯৭ হাজার ২৭৫ শর্ট টনে। মেট্রিক হিসাবে এর পরিমাণ প্রায় ৭ লাখ ২৩ হাজার ২৭৫ টন।
বাজারসংশ্লিষ্টদের ধারণা, সম্ভাব্য আমদানি শুল্ক কার্যকর হওয়ার আগে বিপুল পরিমাণ তামা যুক্তরাষ্ট্রে সরিয়ে নেওয়ার কারণেই দেশটির মজুদ এভাবে বেড়েছে। কয়েকজন বিশ্লেষক মনে করছেন, তামার দাম শিগগিরই টনপ্রতি ১৫ হাজার ডলারে উঠতে পারে।
তবে সাম্প্রতিক মূল্যবৃদ্ধির পেছনে মৌলিক চাহিদার চেয়ে নীতিগত বিষয় বেশি ভূমিকা রাখছে বলে মনে করছে নেদারল্যান্ডসভিত্তিক ব্যাংকিং ও আর্থিক সেবা প্রতিষ্ঠান আইএনজি। প্রতিষ্ঠানটির সাম্প্রতিক এক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য শুল্কই তামার দাম বাড়ার অন্যতম প্রধান কারণ।
ফলে শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্ত পিছিয়ে গেলে কিংবা শেষ পর্যন্ত শুল্ক আরোপ না হলে দুর্বল চাহিদার কারণে তামার দাম দ্রুত কমে যেতে পারে বলেও সতর্ক করেছে প্রতিষ্ঠানটি।
ব্রোকারেজ প্রতিষ্ঠান স্টোনএক্সের জ্যেষ্ঠ ধাতু বিশ্লেষক ন্যাটালি স্কট-গ্রে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে তামার ওপর শুল্কসংক্রান্ত তদন্ত শুরু করার পর থেকে দেশটিতে ১২ লাখ টনের বেশি তামা প্রবেশ করেছে। এর ফলে যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে বাজারে থাকা তামার মজুদ ঐতিহাসিকভাবে নিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে।
তামার পাশাপাশি অন্যান্য শিল্পধাতুর বাজারেও ছিল মিশ্র প্রবণতা। লন্ডন মেটাল এক্সচেঞ্জে অ্যালুমিনিয়ামের দাম দশমিক ২৫ শতাংশ, জিঙ্ক দশমিক ৫৬ শতাংশ, সিসা দশমিক ১৬ শতাংশ এবং নিকেল ১ দশমিক ০৮ শতাংশ কমেছে। টিনের দামও দশমিক ১১ শতাংশ কমেছে।
বাজারসংশ্লিষ্টদের মতে, আগামী দিনে তামার বাজারে যুক্তরাষ্ট্রের শুল্কনীতি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে মজুদ বাড়ার বিপরীতে বিশ্বের অন্যান্য বাজারে তামার সরবরাহ কতটা সংকুচিত হয়, সেটিও ধাতুটির দামের গতিপথ নির্ধারণে বড় ভূমিকা রাখবে।

