মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনার মধ্যেও বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দামে টানা পতন দেখা যাচ্ছে। আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম টানা সাত দিন ধরে কমেছে। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান সংকট কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের সম্ভাবনা তৈরি হওয়ায় বাজারে সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ কিছুটা কমেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, জ্বালানি তেলের বাজারে সবচেয়ে বড় প্রভাব ফেলে সরবরাহ পরিস্থিতি ও ভূরাজনৈতিক অনিশ্চয়তা। মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে তেলের সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কায় সাধারণত দাম বেড়ে যায়। তবে ইরান আলোচনার পথ খোলা রাখার ইঙ্গিত দেওয়ায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে।
বৃহস্পতিবার ২৪ সেপ্টেম্বর আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ৯৪ সেন্ট বা শূন্য দশমিক ৯ শতাংশ কমে ১০২ দশমিক ১৩ ডলারে নেমে এসেছে।
একই দিনে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট বা ডব্লিউটিআই অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ৫৯ সেন্ট বা শূন্য দশমিক ৩৯ শতাংশ কমে ৯১ দশমিক ৫৬ ডলারে লেনদেন হয়েছে।
এর মাধ্যমে টানা সাত দিনের মতো আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দামে পতন অব্যাহত রয়েছে।
এর আগে এক পর্যায়ে জ্বালানি তেলের বাজারে প্রায় ৪ শতাংশ পর্যন্ত দাম বেড়েছিল। তবে ইরান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান সংঘাত নিরসনে কূটনৈতিক আলোচনার সম্ভাবনার কথা জানানোর পর বাজারে সেই চাপ কিছুটা কমে আসে।
তবে দুই দেশের মধ্যে এখনো বড় ধরনের মতপার্থক্য রয়েছে। ফলে আলোচনার মাধ্যমে সংকট কতটা দ্রুত সমাধান হবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে।
বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম কমার পেছনে শুধু কূটনৈতিক পরিস্থিতিই নয়, বরং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক উদ্বেগও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। জ্বালানির দাম বেড়ে গেলে বিশ্বব্যাপী মূল্যস্ফীতির চাপ বাড়ে এবং এর প্রভাব পড়ে সুদের হার, বিনিয়োগ ও ভোক্তা ব্যয়ের ওপর।
সম্প্রতি জ্বালানির দাম বৃদ্ধির কারণে বিভিন্ন দেশে মূল্যস্ফীতি নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছিল। এর প্রভাবে আন্তর্জাতিক বন্ড বাজারেও সুদের হার বাড়ার প্রবণতা দেখা যায়।
বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের ১০ বছর মেয়াদি ট্রেজারি বন্ডের সুদের হার শূন্য দশমিক ০১ শতাংশীয় পয়েন্ট বেড়ে ৪ দশমিক ৯৬ শতাংশ হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগো ফেডারেল রিজার্ভের প্রেসিডেন্ট অস্টান গুলসবিও মূল্যস্ফীতি নিয়ে সতর্ক করেছেন। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে সাম্প্রতিক মূল্যস্ফীতি যদি শুধু জ্বালানির দাম বৃদ্ধির কারণে না হয়ে অন্য কোনো দীর্ঘস্থায়ী সমস্যার কারণে হয়, তাহলে কেন্দ্রীয় ব্যাংককে দ্রুত ও কঠোর পদক্ষেপ নিতে হতে পারে।
বিশ্ব অর্থনীতির জন্য জ্বালানি বাজারের স্থিতিশীলতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ তেলের দাম বাড়লে পরিবহন ব্যয়, উৎপাদন খরচ এবং পণ্যের বাজারমূল্যও বাড়তে পারে। বিপরীতে তেলের দাম কমলে অর্থনীতিতে কিছুটা স্বস্তি তৈরি হওয়ার সুযোগ থাকে।
তবে বর্তমান দরপতন কতটা স্থায়ী হবে, তা নির্ভর করবে মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের আলোচনার অগ্রগতির ওপর। যদি কূটনৈতিক সমাধানের পথ এগিয়ে যায়, তাহলে তেলের বাজারে আরও স্থিতিশীলতা আসতে পারে। কিন্তু সংঘাত আবার তীব্র হলে বাজারে নতুন করে অস্থিরতা তৈরি হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।

