সুইজারল্যান্ডভিত্তিক বহুজাতিক ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান স্যান্ডোজের সঙ্গে দীর্ঘদিনের অংশীদারত্ব আরও সম্প্রসারিত করেছে দেশীয় ওষুধ প্রতিষ্ঠান নেভিয়ান লাইফসায়েন্স পিএলসি। এই লক্ষ্যে স্লোভেনিয়াভিত্তিক স্যান্ডোজের একটি শাখা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সম্প্রতি নতুন একটি চুক্তি সম্পাদন করেছে নেভিয়ান।
নতুন চুক্তির আওতায় বাংলাদেশে স্যান্ডোজের বিভিন্ন ওষুধ আমদানি ও বাজারজাত করবে নেভিয়ান, যার মধ্যে বিশেষায়িত প্রযুক্তিতে তৈরি জটিল কিছু জেনেরিক ওষুধও রয়েছে। মধ্য ইউরোপের স্লোভেনিয়ায় অবস্থিত এই শাখা প্রতিষ্ঠান মূলত সুইজারল্যান্ডের প্যারেন্ট কোম্পানির আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক কার্যক্রম পরিচালনার একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে কাজ করে।
নেভিয়ানের ইতিহাস বেশ পুরোনো। দুই শতাব্দীর বেশি সময়ের ঐতিহ্যবাহী একটি সুইস ওষুধ প্রতিষ্ঠান ১৯৭৩ সালে বাংলাদেশে কার্যক্রম শুরু করে, এবং পরবর্তীতে বৈশ্বিক একীভূতকরণ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ১৯৯৬ সালে প্রতিষ্ঠানটি নতুন নামে আত্মপ্রকাশ করে। বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশনের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে দীর্ঘদিন পরিচালিত হয়ে আসা প্রতিষ্ঠানটির সিংহভাগ শেয়ার ২০২৫ সালে অধিগ্রহণ করে দেশীয় একটি ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান, এরপরই প্রতিষ্ঠানটির নাম বদলে বর্তমান নামে রূপান্তরিত হয়।
নতুন নামে কার্যক্রম শুরুর পর টঙ্গীতে অবস্থিত ইউরোপীয় ইউনিয়নের মান সনদপ্রাপ্ত একটি আধুনিক কারখানা থেকে বিভিন্ন লাইসেন্সিং চুক্তির আওতায় দুটি বিখ্যাত আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডের ওষুধ স্থানীয়ভাবে উৎপাদন ও বাজারজাত করে আসছে নেভিয়ান। একই কারখানায় চুক্তিভিত্তিক উৎপাদনের মাধ্যমে তৈরি ওষুধ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে রপ্তানিও করা হচ্ছে।
নেভিয়ানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই নতুন চুক্তির মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটির আন্তর্জাতিক অংশীদারত্ব আরও বিস্তৃত হবে, এবং এর ফলে দেশের রোগীরা জটিল বিভিন্ন রোগের চিকিৎসায় উন্নত প্রযুক্তিতে তৈরি জেনেরিক ওষুধ ব্যবহারের সুযোগ পাবেন।
বিশ্লেষকদের মতে, দেশীয় মালিকানায় স্থানান্তরিত হওয়ার পরও আন্তর্জাতিক ওষুধ জায়ান্টদের সঙ্গে এ ধরনের চুক্তি অব্যাহত রাখতে পারা দেশের ওষুধ শিল্পের সক্ষমতা এবং আন্তর্জাতিক মান বজায় রাখার ধারাবাহিকতার একটি ইতিবাচক দিক নির্দেশ করে।

