২০২৬-২৭ বিপণন বছরে বিশ্বজুড়ে শস্য উৎপাদন কমার পূর্বাভাস দিয়েছে আন্তর্জাতিক শস্য পরিষদ (আইজিসি)। একই সঙ্গে কৃষিপণ্যের বাজারে দাম বাড়ছে এবং সরবরাহ ব্যবস্থায় নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
কৃষ্ণ সাগর দিয়ে শস্য পরিবহনে বিঘ্ন ঘটায় বিশেষ করে গমের সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এর প্রভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে বিভিন্ন শস্যের দাম বাড়তে শুরু করেছে বলে জানিয়েছে আইজিসি।
সংস্থাটির সর্বশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি বিপণন বছরে বৈশ্বিক শস্য উৎপাদনের পূর্বাভাস ৪০ লাখ টন বাড়িয়ে ২৪২ কোটি টন নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে এই উৎপাদন আগের বিপণন বছরের রেকর্ড উৎপাদনের তুলনায় প্রায় ৩ শতাংশ কম।
২০২৫-২৬ বিপণন বছরে বিশ্বে মোট শস্য উৎপাদন হয়েছিল ২৪৯ কোটি টন।
আইজিসির পূর্বাভাস অনুযায়ী, চলতি বছরে ওশেনিয়া, ইউরোপ এবং আমেরিকার বিভিন্ন অঞ্চলে শস্য উৎপাদন কমতে পারে। অন্যদিকে উত্তর আফ্রিকা ও নিকট প্রাচ্যের দেশগুলোতে উৎপাদন বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
উৎপাদনের এই পরিবর্তনের ফলে কিছু অঞ্চলের আমদানির প্রয়োজন কমতে পারে, তবে বিশ্বব্যাপী সরবরাহ ব্যবস্থায় চাপ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
শস্যের আন্তর্জাতিক বাণিজ্যেও ধীরগতি আসতে পারে বলে জানিয়েছে আইজিসি। সংস্থাটির পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৬-২৭ বিপণন বছরে বিশ্বে মোট শস্য রপ্তানি হতে পারে ৪৫ কোটি ১০ লাখ টন।
এর আগের বছরে বৈশ্বিক শস্য রপ্তানির পরিমাণ ছিল ৪৬ কোটি ৭০ লাখ টন।
বিশেষ করে কৃষ্ণ সাগরীয় অঞ্চলে রপ্তানি কার্যক্রমে বাধা তৈরি হওয়ায় গমের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এই অঞ্চলের দেশগুলো বিশ্ব গম বাজারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
তবে সব কৃষিপণ্যের ক্ষেত্রে একই চিত্র দেখা যাবে না। সয়াবিনের বাজারে উৎপাদন ও বাণিজ্য উভয় ক্ষেত্রেই ইতিবাচক পূর্বাভাস দিয়েছে আইজিসি।
সংস্থাটির মতে, ২০২৬-২৭ বিপণন বছরে বিশ্বে সয়াবিন উৎপাদন রেকর্ড ৪৪ কোটি টনে পৌঁছাতে পারে। একই সময়ে আন্তর্জাতিক সয়াবিন বাণিজ্যও বেড়ে রেকর্ড ১৯ কোটি ১০ লাখ টনে উঠতে পারে।
বিশ্বে সয়াবিনের মোট ব্যবহার হতে পারে প্রায় ৪৪ কোটি ৫০ লাখ টন।
অন্যদিকে চাল উৎপাদনের ক্ষেত্রে নেতিবাচক পূর্বাভাস দিয়েছে আইজিসি। ২০২৬-২৭ বিপণন বছরে বিশ্বে চাল উৎপাদন প্রায় ২ শতাংশ কমে ৫৩ কোটি ৬০ লাখ টনে নেমে আসতে পারে।
চাল উৎপাদন কমার অন্যতম কারণ হিসেবে ভারতের খরিপ মৌসুমের ধান উৎপাদন হ্রাসের কথা উল্লেখ করেছে সংস্থাটি।
এই পূর্বাভাস বাস্তবায়িত হলে এক দশকের বেশি সময় পর প্রথমবারের মতো বিশ্বে চাল উৎপাদনে পতন দেখা যাবে।
তবে উৎপাদন কমলেও চালের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য বাড়তে পারে। আইজিসির ধারণা, বিশ্ব চাল বাণিজ্য রেকর্ড ৬ কোটি ২০ লাখ টনে পৌঁছাতে পারে।
এদিকে বিশ্ববাজারে শস্য ও তেলবীজের দাম ইতোমধ্যে বাড়তে শুরু করেছে। আগস্টের প্রতিবেদনের পর আইজিসির গ্রেইনস অ্যান্ড অয়েলসিডস প্রাইস ইনডেক্স প্রায় ৬ শতাংশ বেড়েছে।
গত বছরের সেপ্টেম্বরের তুলনায় এই মূল্যসূচক বর্তমানে প্রায় ২০ শতাংশ বেশি।
এক বছরের ব্যবধানে গম ও সয়াবিনের দাম উভয়ই প্রায় ২৩ শতাংশ বেড়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, উৎপাদন ঘাটতি, পরিবহন সংকট এবং আন্তর্জাতিক সংঘাত অব্যাহত থাকলে বৈশ্বিক খাদ্য বাজারে আরও অস্থিরতা তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে আমদানিনির্ভর দেশগুলোকে বাড়তি খরচ ও সরবরাহ ঝুঁকির মুখে পড়তে হতে পারে।

