চরম মূল্যস্ফীতি, দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা এবং চলমান সংঘাতের চাপে বড় ধরনের পতনের মুখে পড়েছে ইরানের জাতীয় মুদ্রা রিয়াল। দেশটির মুক্তবাজারে মার্কিন ডলারের দাম নতুন রেকর্ড গড়ে এক ডলারের বিপরীতে ২৫ লাখ রিয়াল ছাড়িয়েছে।
ইরানের বৈদেশিক মুদ্রা বাজার পর্যবেক্ষণকারী ওয়েবসাইট পাশিজির তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার ডলারের বিনিময় হার ৩ দশমিক ৮৪ শতাংশ বেড়ে ২ দশমিক ৫৪২ মিলিয়ন রিয়ালে পৌঁছায়। অর্থাৎ এক ডলারের জন্য গুনতে হচ্ছে প্রায় ২৫ লাখ ৪২ হাজার রিয়াল।
দিনের এক পর্যায়ে ডলারের দাম আরও বেড়ে ২ দশমিক ৫৪৮ মিলিয়নে পৌঁছেছিল। এর আগে সোমবারও ডলারের বিনিময় হার ২৪ লাখ রিয়ালে উঠে নতুন রেকর্ড তৈরি করেছিল।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের অর্থনীতিতে দীর্ঘদিন ধরে চলা চাপ সাম্প্রতিক সময়ে আরও বেড়েছে। বিশেষ করে উচ্চ মূল্যস্ফীতি, কঠোর আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা এবং সামরিক উত্তেজনার কারণে দেশটির মুদ্রাবাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে।
বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, গত ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলা, ধারাবাহিক সামরিক সংঘাত এবং সমুদ্রপথে অবরোধ ইরানের অর্থনৈতিক পরিস্থিতিকে আরও দুর্বল করেছে।
সংঘাতের কারণে দেশটির বাণিজ্য কার্যক্রম ও জ্বালানি তেল রপ্তানি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এর পাশাপাশি দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা এবং মূল্যস্ফীতির চাপ রিয়ালের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
ইরানের অর্থনীতি দীর্ঘদিন ধরেই বৈদেশিক মুদ্রার সংকট, আমদানি ব্যয় বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক লেনদেনে সীমাবদ্ধতার মুখোমুখি। এসব কারণে স্থানীয় বাজারে ডলারের চাহিদা বেড়েছে এবং রিয়ালের মান ক্রমাগত কমছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, মুদ্রার এই দুর্বলতা সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় আরও বাড়িয়ে দিতে পারে। আমদানি করা পণ্য, খাদ্য ও প্রয়োজনীয় সামগ্রীর দাম বাড়ার ঝুঁকি তৈরি হয় যখন স্থানীয় মুদ্রার মূল্য দ্রুত কমে যায়।
বর্তমান পরিস্থিতিতে ইরানের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো বৈদেশিক মুদ্রার স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা এবং অর্থনৈতিক চাপ মোকাবিলা করা। তবে চলমান সংঘাত ও নিষেধাজ্ঞার কারণে সেই পথ আরও কঠিন হয়ে উঠছে।

