বিশ্ব মুদ্রাবাজারে সেপ্টেম্বর মাসে শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে মার্কিন ডলার। বিশেষ করে ইউরোর বিপরীতে ডলারের মূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে উল্লেখযোগ্যভাবে। যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও সুদের হার বৃদ্ধির প্রত্যাশা ডলারের শক্তি বাড়ালেও ইউরোপে জ্বালানি সংকট, ঋণের চাপ এবং রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা ইউরোকে দুর্বল করে তুলছে।
বুধবার এশিয়ার বাজারে ইউরোর বিপরীতে ডলার চলতি বছরের সর্বোচ্চ অবস্থানের কাছাকাছি ছিল। চলতি মাসে ডলার ইউরোর বিপরীতে প্রায় ২ দশমিক ৫ শতাংশ বেড়েছে, যা গত ১৪ মাসের মধ্যে সবচেয়ে বড় মাসিক উত্থানের পথে রয়েছে।
মঙ্গলবার ইউরোর দাম নেমে আসে ২০২৫ সালের মে মাসের পর সর্বনিম্ন পর্যায়ে। ওই দিন এক ইউরোর বিনিময় মূল্য দাঁড়ায় ১ দশমিক ১৩১২ ডলার। বুধবার এশিয়ার বাজারে তা সামান্য বেড়ে ১ দশমিক ১৩৩৯ ডলারে লেনদেন হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি তুলনামূলক শক্তিশালী থাকায় ডলারের প্রতি বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়ছে। অন্যদিকে ইউরোপে জ্বালানি সরবরাহ, ঋণের চাপ এবং রাজনৈতিক অস্থিরতা ইউরোর ওপর চাপ তৈরি করছে।
বৈদেশিক মুদ্রা বিশ্লেষক ব্রেন্ট ডনেলির মতে, যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি শক্তিশালী অবস্থানে থাকলেও ইউরোপ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তির প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ছে এবং জ্বালানি সরবরাহ ও ফ্রান্সের রাজনৈতিক পরিস্থিতি ইউরোর জন্য বড় উদ্বেগ তৈরি করেছে।
চলতি মাসের শুরুতে ইউরোপের গ্যাসের দাম ২০২২ সালের পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে উঠেছিল। একই সময়ে ফ্রান্সে ঋণ ও রাজনৈতিক অচলাবস্থার কারণে বাজারে চাপ বেড়েছে।
ডলারের শক্তি শুধু ইউরোর বিপরীতেই নয়, অন্যান্য মুদ্রার ক্ষেত্রেও দেখা যাচ্ছে। অস্ট্রেলীয় ডলার ৭০ সেন্টের নিচে নেমে আগস্টের পর সর্বনিম্ন পর্যায়ে পৌঁছেছে। মঙ্গলবার অস্ট্রেলীয় ডলারের মূল্য নেমে আসে ০ দশমিক ৬৯৫৯ ডলারে।
সুইস ফ্রাঁর বিপরীতেও ডলার শক্তিশালী হয়েছে। মঙ্গলবার ডলার ১৬ মাসের বেশি সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চ অবস্থানে উঠে এক ডলারে ০ দশমিক ৮৩৫৮ ফ্রাঁতে পৌঁছায়।
অন্যদিকে জাপানি ইয়েনের বিপরীতে ডলার সেপ্টেম্বরে প্রায় ২ শতাংশ কমেছে। তৃতীয় প্রান্তিকে ইয়েনের বিপরীতে ডলারের পতন প্রায় ৩ দশমিক ৮ শতাংশ।
বাজার এখন যুক্তরাষ্ট্রের মূল্যস্ফীতি ও কর্মসংস্থানসংক্রান্ত তথ্যের দিকে তাকিয়ে আছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের কর্মসংস্থান প্রতিবেদন শক্তিশালী হলে সুদের হার বাড়ার প্রত্যাশা আরও জোরালো হতে পারে।
তবে নিউইয়র্ক ফেডের প্রেসিডেন্ট জন উইলিয়ামস বলেছেন, সুদের হার বাড়ানোর ক্ষেত্রে তাড়াহুড়ার প্রয়োজন নেই। তার মন্তব্যের পর যুক্তরাষ্ট্রের দুই বছরের সরকারি বন্ডের সুদ কিছুটা কমেছে এবং আগামী মাসে সুদ বাড়ার সম্ভাবনা নিয়ে বাজারের প্রত্যাশাও কিছুটা কমেছে।
এদিকে নিউজিল্যান্ড ডলার গত নভেম্বরের পর সর্বনিম্ন পর্যায়ের কাছাকাছি অবস্থান করছে। ব্রিটিশ পাউন্ডও তিন মাসের সর্বনিম্ন অবস্থানে নেমেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক শক্তি, সুদের হার নিয়ে প্রত্যাশা এবং ইউরোপের অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা—এই তিনটি বিষয় বর্তমানে বিশ্ব মুদ্রাবাজারের প্রধান চালিকা শক্তি হয়ে উঠেছে।

