বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম বৃহস্পতিবার দিনের শুরুতে প্রায় অপরিবর্তিত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান শান্তি আলোচনা এবং মধ্যপ্রাচ্য থেকে তেল সরবরাহ পরিস্থিতি নিয়ে বিনিয়োগকারীরা নতুন করে হিসাব-নিকাশ করছেন।
আগের দিনের মূল্যবৃদ্ধির পর বাজার এখন অনেকটাই স্থির অবস্থায় রয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের ভবিষ্যৎ গতিপথ নির্ধারণে এখন মূল নজর রয়েছে মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং জ্বালানি সরবরাহের ওপর।
আল জাজিরার প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুডের দাম বৃহস্পতিবার ১২ সেন্ট বা শূন্য দশমিক ১ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৯৮ দশমিক ১৫ ডলারে দাঁড়িয়েছে।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারের প্রধান মানদণ্ড ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট বা ডব্লিউটিআইয়ের দাম ৭ সেন্ট বা শূন্য দশমিক ১ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ৯০ দশমিক ৩৫ ডলারে নেমেছে।
এর আগে বুধবারের লেনদেনে ব্রেন্ট ও ডব্লিউটিআই—দুই ধরনের অপরিশোধিত তেলের দামই প্রায় ১ ডলার করে বেড়েছিল।
সেপ্টেম্বর মাসে তেলের বাজারে বড় ধরনের উত্থান দেখা গেছে। মাসের হিসাবে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম প্রায় ১৪ শতাংশ বেড়েছে, যা জুলাইয়ের পর সবচেয়ে বড় মাসিক বৃদ্ধি।
একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ডব্লিউটিআই তেলের দাম বেড়েছে প্রায় ৫ শতাংশ।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে তেলের দামের ওপর সবচেয়ে বড় প্রভাব ফেলছে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আলোচনার অগ্রগতি এবং ইরানের তেল রপ্তানির সম্ভাব্য পরিস্থিতি বাজারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
ইরানের তেল সরবরাহে কোনো পরিবর্তন এলে আন্তর্জাতিক বাজারে সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় প্রভাব পড়তে পারে। আবার কূটনৈতিক অগ্রগতি হলে বাজারে চাপ কিছুটা কমার সম্ভাবনাও রয়েছে।
বর্তমানে বিনিয়োগকারীরা অপেক্ষায় রয়েছেন যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনার পরবর্তী দিক এবং মধ্যপ্রাচ্যের তেল সরবরাহ পরিস্থিতি নিয়ে নতুন কোনো সিদ্ধান্তের জন্য। এসব বিষয়ে পরিবর্তন এলে বিশ্ববাজারে তেলের দামে আবার বড় ধরনের ওঠানামা দেখা দিতে পারে।

