কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির দ্রুত বিস্তারের কারণে বিশ্বজুড়ে চিপের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় দক্ষিণ কোরিয়ার রপ্তানি সেপ্টেম্বরে নতুন রেকর্ড করেছে। দেশটির সরকারি তথ্য অনুযায়ী, গত মাসে রপ্তানি আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৮৩ দশমিক ৫ শতাংশ বেড়েছে।
দক্ষিণ কোরিয়ার রপ্তানি বৃদ্ধির প্রধান চালিকাশক্তি ছিল সেমিকন্ডাক্টর বা চিপ খাত। এআই অবকাঠামো, ডেটা সেন্টার এবং উচ্চ ক্ষমতার কম্পিউটিং ব্যবস্থার জন্য প্রয়োজনীয় উন্নত চিপের চাহিদা বাড়ায় দেশটির প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো বড় সুবিধা পেয়েছে।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, সেপ্টেম্বরে দক্ষিণ কোরিয়ার মোট রপ্তানি আয় ১২০ দশমিক ৯৪ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে, যা এক মাসের হিসাবে সর্বোচ্চ। আগের বছরের সেপ্টেম্বরে এই পরিমাণ ছিল ৬৫ দশমিক ৯৫ বিলিয়ন ডলার।
চিপ রপ্তানিতে সবচেয়ে বড় উত্থান দেখা গেছে। সেপ্টেম্বরে দেশটির সেমিকন্ডাক্টর রপ্তানি বেড়ে ৬০ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে, যা আগের বছরের তুলনায় ২৬২ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি।
দক্ষিণ কোরিয়ার প্রযুক্তি খাতের অন্যতম বড় প্রতিষ্ঠান স্যামসাং ইলেকট্রনিকস এবং এসকে হাইনিক্স বিশ্বব্যাপী মেমোরি চিপ সরবরাহকারী গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান। এআই প্রযুক্তির জন্য প্রয়োজনীয় উচ্চ ক্ষমতার মেমোরি চিপের চাহিদা বৃদ্ধিতে এসব কোম্পানি বড় সুবিধা পাচ্ছে।
বিশেষ করে উচ্চ ব্যান্ডউইডথ মেমোরি বা উন্নত মেমোরি চিপের বাজারে চাহিদা দ্রুত বাড়ছে। এআই মডেল প্রশিক্ষণ ও পরিচালনার জন্য এসব চিপ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
দক্ষিণ কোরিয়ার বাণিজ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, কম্পিউটার রপ্তানিও ব্যাপক বেড়েছে। সেপ্টেম্বরে কম্পিউটার সম্পর্কিত পণ্য রপ্তানি ৪৩৫ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়ে ৭ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। এআইভিত্তিক প্রযুক্তি এবং এআই অবকাঠামোর চাহিদা বৃদ্ধিই এর প্রধান কারণ।
জুলাই মাসে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্টের কার্যালয় জানিয়েছিল, স্যামসাং ও এসকে হাইনিক্স যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে চিপ সরবরাহের জন্য ৯৫০ বিলিয়ন ডলারের চুক্তিতে যুক্ত হয়েছে।
দক্ষিণ কোরিয়ার বাণিজ্যমন্ত্রী কিম জুং-কোয়ান বলেন, নতুন রপ্তানি রেকর্ড দেশটির শিল্প ও কোম্পানিগুলোর সক্ষমতা তুলে ধরেছে।
তিনি জানান, বর্তমান প্রবৃদ্ধির ধারা অব্যাহত থাকলে চলতি বছরে দক্ষিণ কোরিয়ার বার্ষিক রপ্তানি ১ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছানোর সম্ভাবনা রয়েছে।
তবে তিনি বৈশ্বিক বাণিজ্যে সুরক্ষাবাদ বৃদ্ধি এবং মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনাকে বড় ঝুঁকি হিসেবে উল্লেখ করেছেন। এসব বৈশ্বিক অনিশ্চয়তা মোকাবিলায় সরকার আগাম পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানিয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এআই প্রযুক্তির প্রসার শুধু প্রযুক্তি খাতেই নয়, বরং বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থাতেও বড় পরিবর্তন আনছে। উন্নত চিপ উৎপাদনে সক্ষম দেশগুলো এআই অবকাঠামোর চাহিদা বৃদ্ধির কারণে নতুন অর্থনৈতিক সুযোগ পাচ্ছে।
দক্ষিণ কোরিয়ার সাম্প্রতিক রপ্তানি প্রবৃদ্ধি দেখাচ্ছে, এআই বিপ্লবের অন্যতম বড় সুবিধাভোগী হচ্ছে সেমিকন্ডাক্টর শিল্প। তবে ভবিষ্যতে এই প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে হলে বৈশ্বিক চাহিদা, প্রযুক্তিগত প্রতিযোগিতা এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য পরিস্থিতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে হবে।

