বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান অ্যামাজন তাদের ডেটা সেন্টার থাকা এলাকাগুলোর উন্নয়নে নতুন বড় বিনিয়োগের ঘোষণা দিয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির ক্লাউড সেবা বিভাগ অ্যামাজন ওয়েব সার্ভিসেস আগামী পাঁচ বছরে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন এলাকায় ১০০ কোটি ডলারের বেশি অর্থ ব্যয় করবে।
এই বিনিয়োগের মূল লক্ষ্য শুধু প্রযুক্তিগত অবকাঠামো সম্প্রসারণ নয়, বরং ডেটা সেন্টারকে ঘিরে স্থানীয় পর্যায়ে তৈরি হওয়া বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা। বিশেষ করে ডেটা সেন্টারের কারণে বিদ্যুৎ ও পানির ব্যবহার বৃদ্ধি নিয়ে যেসব উদ্বেগ তৈরি হয়েছে, সেগুলো কমাতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
অ্যামাজনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই অর্থ স্থানীয় শিক্ষা ব্যবস্থা উন্নয়ন, কর্মীদের দক্ষতা বৃদ্ধি, সাশ্রয়ী বিদ্যুৎ ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং পানি ও জ্বালানি সংরক্ষণে ব্যবহার করা হবে। অর্থাৎ প্রযুক্তি খাতের প্রবৃদ্ধির পাশাপাশি যেসব অঞ্চলে তাদের বড় অবকাঠামো রয়েছে, সেসব এলাকার দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নেও গুরুত্ব দিচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি।
বর্তমানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ক্লাউড সেবা এবং অনলাইনভিত্তিক প্রযুক্তির ব্যবহার দ্রুত বাড়ছে। এর ফলে বিশ্বজুড়ে ডেটা সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াকরণের জন্য বড় আকারের ডেটা সেন্টারের প্রয়োজন হচ্ছে। তবে এসব কেন্দ্র পরিচালনায় বিপুল পরিমাণ বিদ্যুৎ ও পানি প্রয়োজন হয়। বিশেষ করে ডেটা সেন্টারের যন্ত্রপাতি ঠান্ডা রাখতে পানির ব্যবহার অনেক সময় স্থানীয় পর্যায়ে আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়ায়।
এই বাস্তবতায় অ্যামাজনের নতুন বিনিয়োগকে প্রযুক্তি সম্প্রসারণের পাশাপাশি পরিবেশগত দায়িত্ব পালনের একটি উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, স্থানীয় জনগণের জন্য শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের সুযোগ বাড়ানোর মাধ্যমে দক্ষ কর্মী তৈরি করাও এই পরিকল্পনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
অ্যামাজন আরও জানিয়েছে, ২০১১ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে ডেটা সেন্টার খাতে তারা ২৭ হাজার ৬০০ কোটি ডলার বিনিয়োগ করেছে। এই বিশাল বিনিয়োগের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি বিশ্বব্যাপী ক্লাউড সেবা অবকাঠামো আরও বিস্তৃত করেছে।
তবে ডেটা সেন্টারের দ্রুত সম্প্রসারণের সঙ্গে পরিবেশগত প্রভাব নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। বিদ্যুৎ ব্যবহারের পাশাপাশি পানির ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করা এখন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। এ কারণে অ্যামাজন আগামী ২০৩০ সালের মধ্যে তাদের ডেটা সেন্টারগুলো যে পরিমাণ পানি ব্যবহার করবে, তার চেয়ে বেশি পানি পরিবেশে ফিরিয়ে দেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে।
প্রযুক্তি খাতের ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে শুধু নতুন উদ্ভাবনের ওপর নয়, বরং সেই প্রযুক্তি কতটা টেকসইভাবে পরিচালনা করা যায় তার ওপরও। অ্যামাজনের এই বিনিয়োগ দেখাচ্ছে, বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো এখন অবকাঠামো নির্মাণের পাশাপাশি স্থানীয় পরিবেশ ও সমাজের ওপর তাদের প্রভাব কমানোর দিকেও নজর দিচ্ছে।
ডেটা সেন্টারের চাহিদা আগামী বছরগুলোতে আরও বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই বিদ্যুৎ, পানি ও পরিবেশ ব্যবস্থাপনার মতো বিষয়গুলো প্রযুক্তি খাতের জন্য আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। অ্যামাজনের এই নতুন উদ্যোগ সেই পরিবর্তিত বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নেওয়া একটি বড় পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

